খালেদাকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা নেই : আইনমন্ত্রী

খালেদাকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা নেই : আইনমন্ত্রী

আইনি কারণে কেউ নির্বাচনের বাইরে থাকলে সরকারের করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ রোববার দুপুরে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচারকদের একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে, দলটির নেতাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার কোনো চেষ্টা আমাদের নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আদালত ও বিচারব্যবস্থা স্বাধীন। নিরপেক্ষভাবেই আদালত এই রায় দিয়েছেন। এখন বিএনপির উচিত আইনগতভাবে এই মামলার মোকাবিলা করা।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে মামলা হলেও আদালত দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় রায় দিয়েছেন দাবি করে এই মামলা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু মনে করি, বিএনপি এখন রায়ের কপি নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। আপিলের পর জামিন চাইতে পারে। আপিলের পর আদালত জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আদালত স্বাধীনভাবেই বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’

এক প্রশ্নের আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা কারো ভয়ে ভীত নই। হুমকি ধমকিতে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে না। খালেদা জিয়ার ব্যাপারে স্বাধীন আদালত স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। পুরো বিষয়টাই এখন আদালতের এখতিয়ারে। আমাদের কিছু করার নেই। তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ইচ্ছে আমাদের নেই। নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রসেস (প্রক্রিয়া)। সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।