লাশের সারিতে ভারি হয়ে উঠছে নেপালের বিমানবন্দর : বিধ্বস্ত বিমানের ৩৮ আরোহী...

লাশের সারিতে ভারি হয়ে উঠছে নেপালের বিমানবন্দর : বিধ্বস্ত বিমানের ৩৮ আরোহী নিহত: এএফপি

ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পড়েছে।

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা বিমানের যাত্রীদের নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এরই মধ্যে ৩৮ জন নিহত হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। আর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি সান বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিমানের কমপক্ষে ৬০ আরোহী বেঁচে নেই।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিহতের সঠিক সংখ্যা না জানালেও তাদের বক্তব্য থেকে সেই ইঙ্গিত মিলেছে। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র নারায়ন প্রসাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এখন যতো দ্রুত সম্ভব দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহত আর আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।

ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত বিমান থেকে এখনো কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। স্থানটি নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক পাশেই অবস্থিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ 18 এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিমানের লোহা কেটে হতাহত যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণে ত্রিভুবন বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে সব ধরনের বিমান উঠানামা এখন বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, বিমানটি মাটির খুব কাছে দিয়ে উড়ে আসছিল।

প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন সেটি সম্ভবত পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখেন সেটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। এরপর আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে বলেও জানান তিনি।

অবশ্য অগ্নি নির্বাপন দল ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী আমেন্ডা সুমারস জানান, বিধ্বস্ত বিমান থেকে যে পরিমাণ ধোঁয়া বের হয় তাতে পুরো আকাশ কালো হয়ে যায়।

এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানে ৩৩ জন নেপালী, ৩২ বাংলাদেশী, একজন মালদ্বীপের এবং এক চীনা নাগরিক ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া দুজন ক্রু এবং দুজন কেবিন ক্রু ছিলেন।

এস২-এডিইউ মডেলের ৭৮ আসনের টুইন টার্বো প্রোপ বিমানটি ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পর অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এরপর পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু ছিলেন।