দক্ষিণ দিনাজপুরের এনজিও গুলো নীলকরের ভুমিকায় অবতীর্ণ

দক্ষিণ দিনাজপুরের এনজিও গুলো নীলকরের ভুমিকায় অবতীর্ণ

শাহিন আলম,হিলি প্রতিনিধি:দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলের হাকিমপুর, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা সরকারের রেজিষ্ট্রেশন বিহীন এনজিওদের দাপটে গ্রামের নিরীহ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
জানাগেছে, এসব উপজেলায় সাইনবোর্ডসর্বস্ব এবং সাইনবোর্ড ছাড়াই অসংখ্য এনজিও নিরীহ মানুষের মাঝে চড়া সুদে ঋণ দিয়ে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে বিভিন্ন স্থানে শাখা অফিস খুলে বসেছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এদের অধিকাংশ এনজিও প্রতিষ্ঠানের সমাজসেবা অধিদফতর থেকে রেজিষ্ট্রেশন পর্যন্ত করা হয়নি। অথচ এনজিও প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। এদের পাশাপাশি কিছু রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত এনজিও প্রতিষ্ঠানও একই রকম কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। ঋণ দেওয়া এবং ঋণ আদায় করা নিয়ে প্রায়ই বচসার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে ওইসব উপজেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর হাজার হাজার নিরীহ অসহায় মানুষকে বিভিন্ন এনজিও স্বাবলম্বী করার নামে ঋণের শিকলে আবদ্ধ করে ফেলেছে। দু’চারজন ছাড়া সবাই এখন ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ঋণের টাকা ফেরৎ দিতে ব্যর্থ মানুষ গুলোর প্রতি জেলার এনজিও গুলোর ভুমিকা ন্যাক্কারজনক। ঋণের টাকা আদায়ে অধিকাংশ এনজিও-ই প্রয়োগ করছে বিভিন্ন কৌশল ও শক্তি। ইতিপূর্বে এসব এনজিও ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঋণ দেওয়ার আগে যেভাবে টাকা নেয় (সঞ্চয়ের নামে) তা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত বলে জানা গেছে। এব্যাপারে এনজিও গুলো সমাজসেবা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতিও পায়নি বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে এনজিও গুলো এখন নীল করের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। গ্রামের মানুষকে স্বনির্ভর করার বুলি আউরিয়ে, আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির কথা বলে এনজিওগুলো কাজ শুরু করলেও বর্তমানে ঋণের বোঝায় অধিকাংশ মানুষই জড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে পরিবেশ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য বা এধরণের বিভিন্ন ¯ে¬াগান দিয়ে এনজিও গুলো মাঠে নামলেও তাদের প্রধান কাজ হল চড়া সুদে ঋণদান করা। এসব তালিকা ভূক্ত এনজিও-র মধ্যে আবার কোনটার অফিস এমনকি সাইনবোর্ডও নেই। অথচ এ বিষয়ে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা দফতরের তেমন কোন ভুমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত বা রেজিষ্ট্রেশনবিহীন এনজিওগুলো নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ঋণদান এবং ঋণ আদায় কার্যক্রমের আড়ালে সুদের কারবার। গ্রামের মানুষ এসব এনজিও নামক শাঁখের করাতের কবলে পড়ে জীবন-মরণের মাঝামাঝি অবস্থান করছে। একটি সূত্র জানায়, অধিকাংশ এনজিও সরকার বা বিদেশী সাহায্য সংস্থার কাছ থেকে (দুই বা পাঁচ ভাগ হার সুদে) ঋণ নিয়ে গ্রামের দরিদ্র মানুষের কাছে চড়া সুদে ঋণ বিতরণ করছে। এ সুদের হার কোন কোন এনজিওকে ৩০ ভাগ আবার কোন কোন এনজিওকে চক্রবৃদ্ধি হারে দিতে হয় বলে জানা গেছে। এতে করে এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দরিদ্র মানুষেরা আরও বেশি করে ঋণে জর্জরিত হচ্ছে। ফলে তাদের ওপর থেকে ঋণের বোঝা কোন ভাবেই নামছে না। এসব উপজেলায় এমনও এনজিও আছে, যারা নামমাত্র টাকা পুঁজি নিয়ে চড়া সুদের বিনিময়ে ঋণদান কার্যক্রমে নেমে পড়েছে। গ্রামের বেশিরভাগ অশিক্ষিত মানুষ এনজিওগুলোর শর্ত না বুঝে না পড়ে স্বাক্ষর অথবা টিপসই দিচ্ছে। বেশ কয়েকটি এনজিও ইতিমধ্যেই উলে¬খযোগ্য পরিমাণে সঞ্চয় আদায় করে কেটে পড়েছে। তাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অভাবী সঞ্চয়ী মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে।

মন্তব্য নেই

উত্তর