১৫ মাসের শিশু নেশাগ্রস্থ বাবার কোলে, শোকে মা শয্যাশায়ী

১৫ মাসের শিশু নেশাগ্রস্থ বাবার কোলে, শোকে মা শয্যাশায়ী

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের সিংড়ায় গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে ১বছর ৩মাসের শিশু তুবাকে নেশাগ্রস্থ বাবার কোলে দেওয়ার শোকে শিশুটির মা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। সোমবার দুপুরে শালিশের মাধ্যমে দুপক্ষ ও কাজির উপস্থিতিতে বিবাহ বিচ্ছেদে ঘটনা ঘটে। শালিশে সুকৌশলে নেশাগ্রস্থ তুহিনের হাতে মেয়ের চাচা আফসার আলী শিশু তুবাকে তুলে দেয়। এদিকে মেয়ের শোকে মা সেতু বেগমের কান্না যেন থামছেনা। কথা বলতে বলতে বারবারই মুর্ছা যাচ্ছেন। তাকে গ্রাম্য ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের বুড়িকদমা গ্রামের ফটিক সরদারের কন্যার সাথে নাটোর জেলার মেহের আলী মোল্লার পুত্র ইদ্রীস আলী তুহিনের বিয়ে হয়। বিয়েতে ৮৬ হাজার ১৩৩ টাকা দেনমোহর নির্ধারন করা হয়।
সেতুর অভিযোগ, তার স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি লেগেই ছিলো। মাঝে মাঝে তার স্বামী তার উপর শারিরীক মানসিক নির্যাতন করতো। এ নিয়ে কয়েক দফা দুপরিবারের মাঝে মনোমালিন্য হয়। নেশা থেকে ফিরে আসতে বার বার তুহিনকে বোঝানোর পরও কোন সুফল আসেনি।
সেতু আরও জানায়, সে প্রায়দিনই রাত ১০ টার দিকে বের হয়ে যায় রাত ৩ টা, ৪টা এমনকি ভোর রাতে বাড়ি ফিরে আসে। দেরি করে বাড়ি ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে বা নিষেধ করলে আমাকে নির্যাতন করে। তাছাড়া বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ দিতো।
সেতুর বাবা ফটিক সরদার জানায়, বিয়ের সময় যৌতুকের ৩০হাজার টাকা দিয়েছি। আরও ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দেবার জন্য মেয়েকে চাপ দিতো। ঘটনার দিন আমার মেয়ে ও আমাকে বন্দী করে কি করা হয়েছে। কিভাবে কি হলো আমরা বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারি নাতনী তুবাকে নিয়ে গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিনভর স্থানীয় ইটালি ইউপির চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলামের বাসায় দুপক্ষ বসার চেষ্টা করে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান স্পর্ষকাতর বিষয় হওয়ায় শালিশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পরে সেতুর চাচা আফসার আলী কৌশলে সেতু ও সেতুর বাবাকে ঘরে বন্দী করে জোড়পূর্বক তুবাকে নেশাগ্রস্থ বাবার হাতে তুলে দেয়।
মেয়ের চাচা আফছার আলী জানায়, ছেলে পক্ষের লোকজন আপোষ করতে নারাজ ছিল তাই তাদের জেদাজেদির কারনে বাচ্চাটিকে দিতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে ইদ্রীস আলী তুহিনের মুঠোফোনে (০১৭৮৩-০৬৯০১৭) বার বার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিংড়া উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে উক্ত গ্রামে যাই। শিশুটির জন্য মা সেতু পাগলপ্রায়। তাকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। তার সাথে কথা বলতে গিয়ে বারবার সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিল। এমতাবস্থায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া দরকার। তাছাড়া দুজনের জীবনেরই আশংকা রয়েছে।
সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খুবই দুংখজনক। নিস্পাপ শিশুকে শালিশের মাধ্যমে বাবার কোলে দেয়ার অধিকার আইনগত ভাবে নাই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য নেই

উত্তর