৭ মার্চের ভাষণ কেবল বাঙালির নয়, বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি

৭ মার্চের ভাষণ কেবল বাঙালির নয়, বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।’

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৬ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। আবদুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।’

তিনি বলেন, “স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’য় পরিণত করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন। মহান নেতার সে স্বপ্ন পূরণে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সব রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের জনগণের অব্যাহত প্রচেষ্টা থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অর্জন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে ধনাত্মক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে একটি মধ্য-আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প-২০২১’ ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করেছেন।’ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘৭ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিকনির্দেশনা জাতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেসকো স্বীকৃতি দিয়েছে, বাঙালি হিসেবে এটি আমাদের বড় অর্জন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন।