৬ ডিসেম্বর: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ে কয়েকটি অঞ্চলে

৬ ডিসেম্বর: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ে কয়েকটি অঞ্চলে

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের হটিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ে ফেনী, যশোর, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, সুনামগঞ্জ ও মেহেরপুরসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে। মুক্তির আনন্দে জয়বাংলা শ্লোগানে এসব জনপদের আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন স্বাধীনতাপ্রেমিরা। তবে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত বিজয় স্তম্ভ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

ফেনী:
১৯৭১ সালের এই দিনে ফেনীর বিলোনীয়া সড়কের বন্দুয়া ব্রিজে পাকিস্তানি সেনাদের হটিয়ে সূর্যোদয়ের উদ্ভাসিত আলোয় বিজয়ের উল্লাসে ফেটে পড়েন এই জনপদের স্বাধীনতাকামী মানুষ। শহরের রাজাঝির দীঘির পাড়ে তৎকালীন সার্কিট হাউজের সামনে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা। এই বিজয় গাঁথার পেছনে রয়েছে একশ’ ৫০ জন বীর শহীদদের আত্মত্যাগ।

যশোর:
একাত্তরের ৪ ও ৫ ডিসেম্বর যশোরের চৌগাছায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মিত্র বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের কঠোর প্রতিরোধে ২ শতাধিক সেনা হারিয়ে হানাদাররা পিছু হটে। ৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় এই অঞ্চল। তবে এখনো শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত বিজয় স্তম্ভ ও বধ্যভূমি যথাযথ সংরক্ষণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

কুড়িগ্রাম:
মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ট্রেনে চড়ে তিস্তা নদীর পূর্বপাড়ে পালিয়ে যায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশিয় দোসররা। বিজয়ীর বেশে শহরে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত সবুজ পতাকা ওড়ান মুক্তিকামী জনতা।

মেহেরপুর:
১৯৭১ সালে পাক বাহিনী মেহেরপুরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে বর্তমান সরকারি কলেজ মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় গণকবর দেয়। পরে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক তৌফিক এলাহি চৌধুরীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়লে দীর্ঘ ৮ মাস লড়াইয়ের পর হানাদার মুক্ত হয় এ জেলা।

এছাড়া একাত্তরের এই দিনে ঝিনাইদহ, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা ও হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি ও কঠোর প্রতিরোধে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। হানাদারদের হটিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য উদিত হয় এসব এলাকায়।

মন্তব্য নেই

উত্তর