আ’লীগের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে: খন্দকার মোশাররফ

আ’লীগের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে: খন্দকার মোশাররফ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ৩০ বা ৪০টির বেশি আসন পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এই সরকার আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে অনেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।’


জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুধবার এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ‘জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি’।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে খালেদা জিয়াকে তারা আবারও ভোট দিয়ে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবেন। আওয়ামী লীগের কোনো পাত্তা থাকবে না। অনেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এসব তথ্য আওয়ামী লীগ তাদের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পেয়েছে। তবে এসব কথা শুধু তাদের নয়, আজকে সাধারণ মানুষও একই কথা বলছে।’

ড. মোশাররফ সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর কোনো নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। আমরা নির্বাচন নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। এজন্যই খালেদা জিয়া দেড় বছর আগেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা বলেছেন। তিনি উপযুক্ত সময়েই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা দেবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের পথে অগ্রসর হয় তাহলে দেশের জনগণ তাদেরকে প্রতিহত করবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করবে।’

সেজন্য ‘নির্বাচনকালীন সরকারের’ বিষয়টি সংবিধান সংশোধন করে তাতে সংযোজন করার আহ্বান জানান তিনি।

এসময়ে বিএনপির এই নেতা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যত কিছুই হোক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরেপক্ষ সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’

জিয়া পরিষদের সভাপতি কবির মুরাদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামাদ দুদু, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, জিয়া পরিষদের নেতা অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ড. মো. এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক কামরুল আহসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ও জিয়া পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদের স্ত্রী মরহুমা হাফিজা মাসুদের মৃত্যুতে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।