আবারও সেই স্লগ ওভার, প্রত্যাশা অনুযায়ী রান হয়নি।

স্পোর্টস ডেস্ক: আবারও স্লগ ওভারে ব্যার্থ টাইগার ব্যাটসম্যানরা। এক সময় (৪০ ওভারের দিকে) ধারণা করা হচ্ছিল বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০০ বা তার আশেপাশে থাকবে। কিন্তু ৩৯ ওভার ৩ বলের মাথায় মাহমুদুল্লাহ আউট হওয়ার পরই যেন ছন্দ পতন শুরু দলীয় রান তখন ৪  উইকেটে ১৯৪। রানের গতি প্রায় স্তমিত হয়ে যায় তখন। এরপর লিটন দাস ও সাকিব জুটি রানের চাকা খুব বেশি দ্রুত ঘোরাতে পারেনি। লিটন -সাকিব আউট হয়ে গেলে মেহেদি ও মাশরাফি জুটিও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। শেষমেশ ২৫৫ রানে শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস।
দিনের শুরুতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওয়ানডের শুরুটা চোট ধাক্কায় শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে ওশানে থমাসের ফুলার লেন্থের বলে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন ডানহাতি ওপেনার লিটন দাস।
থমাসের ফুলার লেন্থের বল গিয়ে লাগে লিটনের ডান গোড়ালির পেছনের অংশে। চোট বেশি হওয়ায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছেড়েছেন লিটন। সার্বিক অবস্থা জানতে তাকে সরাসরি মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানেই এক্সরে করানো হবে তার।
নতুন নামা ইমরুল এক ওভার বিরতি দিয়ে সেই থমাসের বলে ধরাশায়ী হয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। অফস্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল। বিদায় নেন রানের খাতা খোলার আগেই।
নবম ওভারে লেগ বিফোরের আবেদনে রিভিউ নিয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মুশফিক ব্যাট করছিলেন। কিন্তু রিভিউয়ে দেখা যায় বল মিস করেছে স্টাম্প। এরপর দ্রুত গতিতে ব্যাট চালিয়ে খেলেন মুশফিক ও তামিম ইকবাল।
ক্যারিবীয় বোলারদের মেরেই খেলছেন দুজন। আজকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ৫ ক্রিকেটারের মাইলফলকের ম্যাচ। মিরপুরে শততম ম্যাচ খেলতে নামছেন। এই ম্যাচটি স্মরণীয় করতেই ক্যারিয়ারের ৩২তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন মুশফিক। অপরপ্রান্তে থাকা ওপেনার তামিমও মাইলফলকের ম্যাচে হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক।
অর্ধশতকের পর পরই ফিরে যান তামিম। দেবেন্দ্র বিশুর বলে মেরে খেলতে গিয়ে কেমার রোচকে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফেরেন ৫০ রানে। তামিমের ৬৩ বলের ইনিংসে ছিলো ৪টি চার ও একটি ছয়। তার বিদায়ে ভাঙে ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত জুটি। যে জুটিতে এসেছে ১১১ রান। তামিম ফিরে গেলে সঙ্গী মুশফিকও স্থায়ী হননি বেশিক্ষণ। ৬২ রানে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান থমাসের বলে। তার ৮০ বলের ইনিংসে ছিলো ৫টি চার।
নতুন দুই ব্যাটসম্যান নামলে শুরুতে শ্লথ হয়ে পড়ে রানের চাকা। বড় সংগ্রহ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা উঁকি দিলেও থিতু হওয়ার পর রানের চাকা সচল করেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে। এই জুটি আরও বড় হতো যদি না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভুল শট খেলতে যেতেন। তাদের পার্টনারশিপ যখন ৬১ রানে দাঁড়িয়ে তখনই ভুল শটে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। পাওয়েলের বলে টপ এজ হয়ে রিয়াদ ধরা পড়েন হেটমায়ারের হাতে। সৌম্য সরকার নেমে রানের যোগান দিতে পারেননি। শর্ট বলে ক্যাচ উঠিয়ে দেন থার্ড ম্যানে। সৌম্যর ক্যাচ লুফে নেন দেবেন্দ্র বিশু। সাকিব অপর দিকে অভিজ্ঞ ৫ তারকার মাইল ফলকের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ছক্কা মেরে। তার আগে অবশ্য নো বলে ক্যাচ উঠিয়ে ছিলেন। এরপর ফ্রি হিট পেলে ছক্কা মেরে পূরণ করেন ক্যারিয়ারের ৪০তম ফিফটি। ৬২ বলে ৬৫ রান করে  সাঁজঘরে ফেরেন তিনিও। দলীও রান তখন ২৩৯।
এর আগে একই ওভারে পূনরায় ব্যাট করতে নামা লিটন দাস খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। ১৪ বল মোকাবেলা করে তিনি করেছেন ৮ রান। লিটন -সাকিব আউট হয়ে গেলে মেহেদি ও মাশরাফি জুটিও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। শেষমেশ ২৫৫ রানে শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস।
সক/তৌহিদ