মিয়ানমার রোহিঙ্গা নিধনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছে

জাতিগত নিধনযজ্ঞের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছে মিয়ানমার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে ২০১৭ সালের আগস্টে নিধনযজ্ঞ জোরালো করার পর এবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এমন ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে যেন রোহিঙ্গা সংকট অসমাধানযোগ্য হয়ে ওঠে।

১৮ ডিসেম্বর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্যাটেলাইট ছবি, সাক্ষাতকার সরকারি ম্যাপ সম্বলিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিলো। বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টা খুবই কঠিন। গত বছর `শুদ্ধি অভিযানের সময় গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে বুলডোজারে নিশ্চিহ্ন করা হয় সেই আলামত। সেখানে উঠেছে নতুন ঘরদোর। তবে বববাস করছে বৌদ্ধরা।

মিয়ানমারে যুগ যুগ ধরেই বৌদ্ধরা শাসন করে আসছে। চড়াও হচ্ছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর। রয়টার্স খবর দিয়েছে, মিয়ানমার সরকার বৌদ্ধদের পুনর্বাসনে সহায়তা করছে। আর এই পুনর্বাসনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা যারা সেই অঞ্চলকে বৌদ্ধ অধ্যুষিত করে গড়ে তুলতে চায়। এই তথ্যের সঙ্গে তারা সরকার প্রস্তাবিত খসড়া ম্যাপও প্রকাশ করেছে। সে কারণে রোহিঙ্গারা ফিরলেও তাদের আশ্রয় নিতে হবে অভ্যন্তরীণ শরণার্থী শিবিরে। অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষের থেকে বিচ্ছিন্নই থাকতে হবে তাদের। এছাড়া নতুন ধরনের নিধনযজ্ঞের কথাও উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি (রয়টার্স)। সরকার এমন পরিবেশ তৈরি করছে যেন রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব না থাকে, আবার নিধনযহজ্ঞের প্রকৃত আলামতও পাওয়া না যায়।

স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে রয়টার্সের রিপোর্টে তুলে ধরা হয় ইন দিন গ্রামের ভয়াবহ চিত্র। ২০১৭ সালের ওই নিধনযজ্ঞে ১০ মুসলিম পুরুষের হত্যাকাণ্ড নিয়েও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা।  ছবির মাধ্যমে ফুটে ওঠে কিভাবে সেসময় কৌশলে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো ধ্বংস করা হয়েছিলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল বৌদ্ধ বাড়িগুলো ঠিকই আছে। আরও নতুন ১০০টি বাড়ি বানানো হয়েছে। কিন্তু সরকারের পুনর্বাসন ম্যাপের কোথাও রোহিঙ্গাদের নিয়ে পরিকল্পনা নেই।

নিধযনযজ্ঞ অনুসন্ধান করা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককেও জেলে পাঠানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি বলেছেন, তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে কাজ করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও অগগ্রতি স্পষ্ট নয়। নভেম্বর পর্যন্ত ২২০০ জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও কোনও রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি হয়নি। তারা নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা চান। আর মিয়ানমার চায় তারা যেন ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড নেয়। রোহিঙ্গারা এই প্রস্তাবে রাজি নয়।

সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ৯ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছে। সৃষ্টি হয়েছে চরম মানবিক সংকট। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তাদের প্রত্যাবাসন হবে হবে স্বেচ্ছায়।