সেনা মোতায়েন থাকবে ১০ দিন

ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগে-পরে মিলিয়ে ১০ দিন সেনা সদস্য মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোটের ছয় দিন আগে মোতায়েন হবে সেনাবাহিনী; ভোটের পরও দুই দিন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে থাকবে তারা।

বিএনপি বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন চাইলেও তা হচ্ছে না; সেনাসদস্যরা বরাবরের মতো বেসামরিক প্রশাসনের অধীনেই কাজ করবেন।

বৃহস্পতিবার ইসির সঙ্গে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন, “এবার সেনাবাহিনী ১০ দিন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী নির্বাচনী এলাকায় থাকবে।”

পুলিশি দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানিয়ে আসা বিএনপি বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি আরও আগে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে।

ইসির পরিকল্পনা শুনে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সামরিক বাহিনী মোতায়েন হবে ১৫ তারিখ থেকে, পত্রিকায় এসেছিল। আজকে সেটা ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ কী?

“কারণ হল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের সাইজ কর, এলাকায় আতঙ্ক ছড়াও, যাতে তারা এলাকা থেকে চলে যায়।”

সিইসি কে এম নূরুল হুদা তফসিল ঘোষণার সময়ই বলেছিলেন, “নির্বাচন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে যথা-প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।”

‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ এ দায়িত্ব পালনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নির্বাহী হাকিমও চেয়ে ইসি যে চিঠি দিয়েছে, তাতে সেনা মোতায়েনের কথা রয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, আচরণবিধি প্রতিপালনে ভোটের দুই দিন আগে থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত নির্বাহী হাকিম নিয়োগ করা প্রয়োজন।

“মোতায়েন করা সশস্ত্রবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ব্যাটালিয়ান আনসারের মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী হাকিম নিয়োগের প্রয়োজন হবে।”

ইসি বলছে, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মপরিধি এবং কত সময় তারা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করবে- সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত পরিপত্র আকারে জারি করা হবে।

ইসি সচিব বলেন, “আইন শৃঙ্খলা সভায় প্রস্তাবগুলো আলোচনা হয়েছে। শনিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত হবে। ইসির অনুমোদন সাপেক্ষে পরিপত্র জারি করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।”

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২৪ ডিসেম্বর থেকে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে ইতোমধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবেশ পরিস্থিতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে প্রতি জেলায় ছোট আকারে সশস্ত্র বাহিনীর টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবারের আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে- প্রতি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। রিটার্নিং অফিসার সহায়তা কামনা করলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করবে। রিটার্নিং অফিসার বা প্রিজাইডিং অফিসারের চাহিদা ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনাকক্ষে কোনো প্রকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। ইন্সট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ও বিধি অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নৌবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতি জেলায় নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে কম-বেশি করা যাবে। সেনা সদরের। বিবেচনায় প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্য রিজার্ভ হিসেবে মোতায়েন থাকবে। সড়ক/মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল ও স্বাভাবিক আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করবেবিমানবাহিনী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহনে সহয়তা করবে।
ইভিএম ব্যবহার হবে যে ৬টি নির্বাচনী এলাকায় কারিগরি সহায়তায় (অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছাড়া) তাতে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে। ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধানে নিবিড় ও গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।

 

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০০১ সালের আগে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো বিধান আরপিওতে ছিল না। তারপরও ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও জেলা/থানা/উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়।

২০০১ সালের এক অধ্যাদেশে নির্বাচনে ‘ল’ এনফোর্সিং এজেন্সির’ সংজ্ঞায় ‘ডিফেন্স সার্ভিস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে তা বাদ দেওয়া হয়।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, বিজিবি সদস্যদের ১২ দিনের জন্য মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ ডিসেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর মাঠে থাকবে তারা।

সেই সঙ্গে পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে ৬ দিনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর নিয়োজিত রাখা হবে তাদের।

ইসি সচিব বলেন, “ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সদস্যদের ভোটের দুই দিন আগে ২৮ ডিসেম্বর থেকে মোতায়েন করা হবে।”

সক/তৌহিদ