২০১৮ ইন্দোনেশিয়ার জন্য বিপর্যয়ের বছর

লোম্বকে ভূমিকম্প

এ বছরের আগস্টে বালির কাছে লোম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে প্রাণ হারায় শতাধিক মানুষ। এর আগে ২৯ জুলাই একই এলাকায় অনুভূত ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারায় ১৭ জন।  

সুলাওয়েসি ও সুমাত্রা ফেরি বিপর্যয়

২০১৮ সালের ১৮ জুন সুমাত্রা দ্বীপের কাছে একটি কাঠের তৈরি ফেরি ডুবে যায়। নিখোঁজ হয় ১৬৪ জন। নিখোঁজদের সবার মৃত্যু হয়েছে এমন আশঙ্কা জানিয়ে জুলাইয়ে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আর সেদিনই ঘটে আরেকটি ফেরিডুবির ঘটনা। সুলায়েসি থেকে সেলায়ার দ্বীপে যাওয়ার পথে ফেরি ডুবে কমপক্ষে ৩১ জন প্রাণ হারায়।

সুলাওয়েসি ভূমিকম্প ও সুনামি

এ বছরের সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু এলাকায় ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর পর পরই শুরু হয় সুনামি। একসঙ্গে বড় দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। পালু ও আশেপাশের এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ভূমিকম্পের পর ১৭০টি আফটার শক অনুভূত হয়। ব্যাহত হতে থাকে উদ্ধার তৎপরতা। সরকারি হিসেবে ওই দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর আশঙ্কা, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা ৫ হাজার।

লায়ন এয়ার বিধ্বস্ত

২০১৮ সালের অক্টোবরে জাকার্তা থেকে পাংকল পিনাং যাওয়ার পথে লায়ন এয়ারের একটি বিমান সাগরে বিধ্বস্ত হয়। নিহত হয় প্রায় ২০০ মানুষ।

সুন্দা স্ট্রেট সুনামি

শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সুন্দা স্ট্রেটে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট সুনামিতে এখন পর্যন্ত ১৬৮ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও সাত শতাধিক মানুষ। আনাক ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সাগরের তলদেশে ভূমিধসের কারণে এই সুনামি সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের কারণে ঢেউয়ের উচ্চতা অস্বাভাবিক বেশি ছিল। ইন্দোনেশিয়ান আবহাওয়াবিজ্ঞান, ক্লিম্যাটোলজি এবং জিওফিজিক্যাল এজেন্সি (বিএমকেজি) জানায়, এ সুনামি কোনও ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হয়নি। ভূ-গর্ভস্থ ভূমিধসের কারণে হয়েছে।