আইওটি ডিভাইস সাইবার অপরাধীদের ‘টার্গেট’

ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইসকেই (আইওটি) বেশি পছন্দ করে সাইবার সন্ত্রাসীরা। ওয়েব, অ্যাপ্লিকেশন সেবা ও ই-মেইল সার্ভারে গিয়ে আইওটি ডিভাইসকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াটাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পর বুধবার এমন তথ্য জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এফ৫ ল্যাব। গবেষণা সংস্থাটির সর্বশেষ এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে টেকরাডার।
সংস্থাটির পঞ্চম পর্ব ‘দ্য হান্ট’ গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে ১৩টি থিংবট ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়। বটগুলোর ওপর নজর রাখতে গিয়ে তারা দেখতে পান অল্প দিনেই আইওটি ডিভাইসগুলো বটনেটে পরিণত হয়েছে।

ল্যাব-৫ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে স্পেন এ ধরনের আক্রমণের শিকার হয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময়ে ইন্টারনেটে আক্রমণের ৮০ শতাংশই সেখানে ছিল নজরদারিযুক্ত আইওটি ডিভাইসের ওপর। রাশিয়া, হাঙ্গেরি এবং যুক্তরাজ্যকে একই ধরনের চাপে থাকতে হয়েছে।

এর বেশিরভাগ হামলাই করা হয়েছে ব্রাজিল থেকে। আইওটি ডিভাইসে হানা মোট সাইবার হামলার ১৮ শতাংশই করা হয় এই দেশটি থেকে। হামলাকারী দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন থেকে আক্রমণ করার হার ছিল ১৫ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে মোট হামলার ৯ শতাংশ জাপান, ৭ শতাংশ হারে পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য এবং ৬ শতাংশ ঘটেছে ইরান থেকে।  

ল্যাব-৫ পর্যবেক্ষণ বলছে, হামলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ডিডস পদ্ধতি। এই আক্রমণের পরই তারা থিংবটকে ব্যবহার করে। প্রক্সি সার্ভারের মাধ্যমে ডিভাইসগুলোতে ক্রিপোট জ্যাকিং, টর নোড, প্যাকেট স্নিফার ইন্সটল করে দেয়। একইভাবে অতি গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে কিংবা প্রতারক ট্রোজান’র মাধ্যমে ডিএনএস হাইজ্যাক করে থাকে।

এছাড়া গ্লোবাল ইন্টারনেট স্ক্যান অনুসন্ধান করে আইওটি ডিভাইসের দূরবর্তী সেবাদানকারী প্রশাসকের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ডিভাইসগুলোকে আক্রমণ করেছিল হ্যাকাররা।