আসছে ভোল্টি, বদলে যাবে মোবাইলে কথা বলা

মোবাইলে কথা বলার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ভয়েস ওভার এলটিই বা ভোল্টি বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে ।

মূলত ফোরজি বা এলটিই নেটওয়ার্কে কথা বলার প্রযুক্তি হলো  এই ভোল্টি (VoLTE) যার পুরো নাম Voice over LTE।  তিন হতে চার মাসের মধ্যে দেশে এই প্রযুক্তি চালু হতে পারে।

আর এই প্রযুক্তি মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে দেশের চলমান পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করে দেবে। দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কেউ কেউ ইতোমধ্যে এই ভোল্টি চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

শীর্ষ পর্যায়ের একটি অপারেটরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির জন্য বেশ বড় অংকের বিনিয়োগ করতে হবে। তারা যদি সিদ্ধান্ত নেন এটি তিন মাসের মধ্যে চালু করবেন তাহলে তারা তা পারবেন।

আরেকটি অপারেটর জানিয়েছে, ভোল্টি সেবা দিতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক সময়ে তারা গ্রাহকদের এই সেবা দিতে পারবে।

বিশ্বে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চালু হয় ২০১৪ সালের মে মাসে সিঙ্গাপুরে। সিংটেল গ্যালাক্সি নোট ৩ হ্যান্ডসেটের সঙ্গে মিলে পুরোপুরিভাবে এই ভোল্টি সেবা উদ্বোধন করে।

২০১৭ সালের শেষের দিকে ভারতী এয়ারটেল ভারতে এটি চালু করে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন , মাসখানেক আগেই এই প্রযুক্তি নিয়ে তারা ভাবতে শুরু করেন। এরপর এটির উপর মোটামুটি কাজ করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে গতি আনার কথা বলা হবে। আশা করছি মাস তিনেকের মধ্যে এটি প্রয়োগ করা যাবে।

‘এটি মোবাইলের বর্তমান ভয়েস কল পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করে দেবে। তার মানে মোবাইল নেটওয়ার্ক কেবলমাত্র ইন্টারনেট দেবে এবং সেই ইন্টারনেট দিয়েই টুজি পর্যন্ত ভয়েস কল দেবে কোনো ভয়েস টেকনোলজি ছাড়া’ বলছিলেন তিনি।

ভোল্টিতে কথা বলা যাবে এইচডি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার মানে। যা উপভোগ করা যাবে অডিও-ভিডিও দুটিতেই। বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে কল করলে তা কানেক্ট হতে ৯ হতে ১১ সেকেন্ড সময় নেয়। ভোল্টিতে এটি দু-তিন সেকেন্ডে হতে পারে।

এখন মোবাইলে ভয়েসে আসা-যাওয়ার মাঝখানে যে ডিলে থাকে সেটি ভোল্টিতে থাকবে না। মানে ইন্সট্যান্ট একদম মুখোমুখির কথা বলার মতো এটি আদান-প্রদান হবে।

কথা বলতে গিয়ে কেটে কেটে যাওয়ার বিষয়টি একদম হওয়া হয়ে যাবে। কলড্রপ কমে যাবে অনেক।

এছাড়া প্রচলিত সুইচ প্রযুক্তির বদলে এই প্রযুক্তিতে ভয়েস কল প্রতি অপারেটরগুলোর খরচও কম পড়ে।