ইউএনএইচসিআর:কানাডার কারণেই সার্বজনীন মানবতার মূল্যবোধ রক্ষা পেল

সৌদি তরুণী রাহাফ মুহাম্মেদ আল কুনুনকে (১৮) আশ্রয় দেওয়ায় কানাডাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। রাহাফের টুইটার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার আশ্রয়ের ব্যাপারে থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রত্যাহারে তার আশ্রয় পাওয়ার প্রশ্নে সংশয় তৈরি হয়েছিল। কানাডা তাকে আশ্রয় দেওয়ায় সেই সংশয় দূর হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, কানাডার এই ভূমিকার কারণে সার্বজনীন মানবতার মূল্যবোধ রক্ষা করা গেছে।

শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে থাইল্যান্ডের অভিবাসন পুলিশ প্রধান সুরাসাতি হাকপার্ন জানান, ‘অস্ট্রেলিয়া রাহাফের শরণার্থী আবেদন গ্রহণ করেছে। কিন্তু তিনি কোথায় যেতে চান সে বিষয়টি জানতে অপেক্ষায় আছি। কুনুনকে আশ্রয় দেয়ার জন্য কানাডাও প্রস্তাব দেয়।’ তিনি কানাডায় যেতে রাজি হয়েছেন। পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, রাহাফকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও পরে অভিবাসন পুলিশের প্রধান তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরপর রাহাফের পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। তার টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।  এক পর্যায়ে দুই ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি ও রয়টার্স ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে তার কানাডায় আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর হাইকমিশনার ফিলিপপো গ্রান্ডি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গত ক’দিনে তার (রাহাফ) অবর্ণনীয় বাস্তবতা বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।  তার এই সংকট বিশ্বজোড়া শরণার্থীদের দুর্দশাকে সামনে এনেছে।’ কানাডার ভূমিকার প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সময়ে এসে প্রায়শই শরণার্থীদের সুরক্ষার প্রশ্ন হুমকিতে পড়ে। তবে এইক্ষত্রে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন ও সার্বজনীন মানবতার মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

গত বুধবারেই কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, রাহাফের বিষয়টি তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। ‘কানাডা সবসময় মানবাধিকার প্রশ্নে অবস্থান নেবে। নারীর অধিকার নিশ্চিতে তো অবশ্যই।’ জানিয়েছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে জাস্টিন ট্রুডোর দেশ। নারী অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে আলোচিত প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘কানাডার পক্ষ থেকে বরাবরই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে আমরা মানবাধিকার ও নারীর অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেব। সে কারণেই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আমাদের সহায়তা প্রার্থনা করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রাহাফকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ 

পরিবারের সঙ্গে কুয়েতে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রাহাফ । থাইল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যাংককের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়প্রার্থী রাহাফকে আটক করে হোটেলের একটি রুমের ভেতর বন্দি রাখা হয়। জোর করে তাকে কুয়েতেগামী বিমানে তুলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা তাকে বৈধ শরণার্থীর স্বীকৃতি দেয়।