কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে স্বাবলম্বী ফুলবাড়ীর বড়ভিটার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রুবেল


সাইফুর রহমান শামীম,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের বড়ভিটা ইউনিয়নের ধরলা নদী বিধৌত গ্রাম পূর্ব ধনীরাম। ধরলা ছাড়াও এ গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত নীল কুমর নদ। ধরলার বিরামহীন ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়েছে এ গ্রামের অনেক মানুষ। এখানকার মানুষের দুঃখের আর একটি কারণ ধরলা নদী এবং নীল কুমর নদের প্রবাহিত পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা। যার কারণে এক সময় পূর্ব ধনীরাম গ্রামে ছিল মঙ্গার কড়াল থাবা। সেচ সুবিধা, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি, শিক্ষার প্রসারে সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তন হয়েছে মানুষের আর্থ সামাজিক এমনকি মানসিক অবস্থারও। এখানকার মানুষ এখন বিভিন্ন কর্মে আত্মনিয়োগ করছে। এরকম একটি পরিবারের কর্তা খবির উদ্দিন(৬০)। তিনি বড়ভিটা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড পূর্ব ধনীরাম গ্রামের বাসিন্দা। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় দুই ছেলে কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে। তৃতীয় ছেলে রুবেল মিয়া (২২) জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। চোখে কিছুই দেখতে পান না। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ থাকলেও চোখে দেখতে না পাওয়ায় সে সুযোগ তার হয়নি। অদম্য মনোবলের কারণে কারও ওপর নির্ভরশীল বা সমাজের কাছে সাহায্যের হাত না পেতে সে কর্মের পথ বেছে নিয়েছে। সে কাঠমিস্ত্রীর কাজ বেছে নিয়েছে জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন হিসেবে। রুবেল মিয়া এ কাজে দক্ষ না হওয়ায় তার মজুরীও অনেক কম। প্রতিদিন কাজের জন্য সে ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা মজুরী পায়। এতেই কোন রকমে তার জীবন চলে। তার স্বপ্ন কোন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা কোন হৃদয়বান ব্যক্তি যদি তাকে কোন কাজের প্রশিক্ষণ দিতো। এভাবে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্ম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিত। তাহলে সমাজের অন্য দশজনের মতো সেও স্বাবলম্বী জীবন যাপন করতে পারতো। বর্তমানে সামান্য আয়ে তার একার জীবন কোন রকমে চলছে। কিন্তু ভবিষ্যতে বিয়ে করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে এই সামান্য আয়ে তো সংসার চালানো সম্ভব হবে না। তাই ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে চিন্তিত রুবেল মিয়া।

অন্যের দানে বা করুনায় নয় মানবিক সহযোগিতায় সম্মানজনক স্বাবলম্বী জীবন গড়াই তার একমাত্র স্বপ্ন।