নেতৃত্বশূন্যতাই বিএনপির পরাজয়ের প্রধানতম কারণ —প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার কারাগারে আটক থাকা এবং একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার ফলে বিএনপির মধ্যে যে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে, সেটিই তাদের নির্বাচনে পরাজয়ের প্রধানতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। খবর বাসস।

শেখ হাসিনা বলেন, তাদের দলে কি এমন কোনো ভালো মানুষ নেই, যাকে তারা চেয়ারম্যান বানাতে পারে, তারা বানাল একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে। এছাড়া উপযুক্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে কেবল অর্থের বিনিময়ে অনেক অখ্যাত, স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় দলের মধ্যে কোন্দলও সৃষ্টি হয়েছে। যখন সিট অকশনে (নিলাম) দেয়া হয়, তখন তারা নির্বাচনে জেতে কীভাবে?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ তাদেরই ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে যারা ব্যর্থ হয়, তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে না, এটাই হলো বাস্তবতা। এ সময় ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা তাদের অবরোধ-ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত কিন্তু আর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি। কারণ জনগণ আর তাদের কোনো ধর্তব্যের মধ্যেই নেয়নি। জনরোষের কারণে তাদের সব আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। ৩ হাজার ৯০০-এর ওপর গাড়ি ভাংচুর করেছে। সাড়ে তিন হাজারের ওপর মানুষকে তারা পুড়িয়েছে। ৫০০-এর কাছাকাছি মানুষ আগুনে পুড়ে মারা গেছে। ছোট্ট শিশু থেকে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী কেউ বাদ যায়নি। তাদের রুদ্ররোষ থেকে শুধু মানুষ নয়, গাছপালাও রেহাই পায়নি। গাছ কেটেছে, রাস্তা কেটেছে, রেললাইনের ফিশ প্লেট খুলে ফেলেছে। এ অপকর্মের পর তারা কীভাবে আশা করতে পারে, জনগণ আবার তাদের ভোট দেবে?’

শেখ হাসিনা এ সময় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে মনোনয়ন দেয়াও বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে উচ্চ আদালত থেকে একটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই জামায়াতের ২৫ জনই মনোনয়ন পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীকে কখনই ভোট দেবে না। ভোট তারা দিতে চায়ও না। ভোটও দেয়নি। যাদের কোনো রাজনীতিই নেই; কেবল দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মানি লন্ডারিং, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ, অগ্নিসন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা যাদের নীতি, তারা জেতার আশা কীভাবে করে?’

বাংলাদেশের উন্নয়নের সুফলটা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারার কারণেই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কারণে বাংলাদেশের জনগণ আজকে ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, যার ফলে আমরা আবার দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় নৌকা ও মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করায় সব শ্রেণী-পেশার জনগণ তথা সমগ্র দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, উন্নয়ন চায়, নিজের জীবনের উন্নতি চায়, সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা আমাদের ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালিরা জানতে পারেনি, বঙ্গবন্ধু কি বেঁচে আছেন, না নেই। অথচ পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের কাছে না গিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণের মাধ্যমে তিনি জাতিকে যে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সে অনুযায়ীই আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে। জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।