সাইনোসাইটিস কি? এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কি?

নাকের আশপাশে কয়েকটি বায়ু-কুঠুরি আছে, যেগুলো সাইনাস নামে পরিচিত। সাইনাসের প্রদাহই সাইনোসাইটিস। সাইনাসের অভ্যন্তরে ছোট ছোট চুলের মতো সিলিয়া থাকে, এদের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলে সাইনাসের নিঃসরণ আটকে যায়, আর এ থেকে রোগ-প্রক্রিয়াটি শুরু হয়।
সাইনোসাইটিসের হাত হতে উপশম পেতে হলে সাইনাসের অবস্থান জানা দরকার।

লক্ষণ:
প্রধান লক্ষণ সবাই মাথা ব্যথার কথা করে। মাথাব্যথা সকালের দিকে শুরু হয়, ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং দুপুরের দিকে কমে আসে। মাথার গভীরে দপদপে লাগাতার ব্যথা হয়, রোগীরা আঙুল দিয়ে আক্রান্ত সাইনাসের অবস্থান নির্দিষ্ট করে দেন। মাথা সামনের দিকে ঝুকালে ব্যথা বেশি হয়। সাইনাসের নিঃসরণ আটকে যাওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় বাতাস ঢুকতে পারে না বলে ব্যথা হয়৷মাথাব্যথার পাশাপাশি নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ঘন শ্লেষ্মা জাতীয় নিঃসরণ বের হয়৷ শরীরে ম্যাজম্যাজে অনুভূতি হয়।

হালকা জ্বর থাকে। নাক বন্ধ থাকে বলে রোগীরা মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়৷ কাশি থাকতে পারে।

চিকিৎসা:
চিকিৎসার ব্যাপারটি রোগের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

সাইনোসাইটিস হলে করনীয়ঃ

১. স্টিম বাথ: স্টিম বাথ বা বাষ্পীয় প্রশ্বাস গ্রহণ দারুণ কার্যকরি। আর্দ্রতার কারণে নাকে সূক্ষ্ম সিলিয়াগুলো তাদের কার্যক্ষমতা ফিরে পায় ও সাইনাসের মুখ খুলে যায়। দিনে দু বার স্টিম বাথ বা বাষ্পীয় প্রশ্বাস গ্রহণ করা যেতে পারে। বালতি বা গামলায় বাষ্পসুদ্ধ সিদ্ধ পানি নিয়ে
ঝুঁকে বসতে হবে, একটা তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ফেলুন যাতে উদ্বায়ী বাষ্প বেরিয়ে যেতে না পারে। এবার শ্বাসের সঙ্গে গরম বাষ্প টেনে নিতে হবে। দিনে দু’বার করতে হবে। পানির সঙ্গে টিংচার আয়োডিন বা ক্রিস্টাল মেন্থল মেশালে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

২. সাইনোসাইটিসের প্রকোপ কমাতে নিয়মিত নাক পরিষ্কার রাখা জরুরি। ঘন শ্লেষ্মা বা সিক্রেশনগুলো বের করে ফেলতে হবে।

৩. সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ পানি বা পানীয় (ঠাণ্ডা এবং গরম দুটোই) গ্রহণ করা উচিৎ। এতে সাইনাসের নিঃসরণ পাতলা হয় এবং সাইনাসের কার্যক্ষমতা সচল থাকে।

৪. দুই নাক একসঙ্গে ঝাড়া যাবেনা। তাতে প্রদাহ বা সংক্রমণ কান পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে।

৫. সাইনাসের নিঃসরণ পাতলা হলে সহজে বেরিয়ে যায়। সেজন্যে খাবারে রসুনের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। রসুন ন্যাচারাল ডিকনজেসটেন্ট হিসেবে কাজ করে, ফলে বন্ধ নাক খুলে যায়।

৬. খানিকটা শারীরিক পরিশ্রম করলে সাইনাসের মুখ খুলে যেতে পারে, এতে কিছুটা উপশম পেতে পারেন।

৭. সংশিষ্ট সাইনাসের ওপর চাপ প্রয়োগে ব্যথা অনুভব হতে পারে। এক্ষেত্রে ভেজা হালকা গরম কাপড় কয়েক মিনিটের জন্যে রেখে দিলে ব্যথা কমে আসবে।

৮. সাইনোসাইটিসের ব্যথার সঙ্গে ক্ষুধার সম্পর্ক রয়েছে। ব্যথার সময় খিদে পেলে দ্রুত খেয়ে ফেলবেন, নয়তো ব্যথা বেড়ে যাবে।

ডাঃ আয়েশা রাইসুল,দেশিডক্টর হেলথ ডেস্ক