সেনাবাহিনীর মুখোমুখি ভেনেজুয়েলার পেমন আদিবাসী গোষ্ঠী

ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পেমন আদিবাসী গোষ্ঠী। ত্রাণ ঢুকতে কোনও বাধা দিলে তা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে তারা। সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণবাহী গাড়ি ঢুকতে দেওয়া না হলে সরকারি গাড়ির চলাচলও বন্ধ করে দেওয়ার ডাক দিয়েছে তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একহাত হয়ে গেছে পেমনদের। সংঘর্ষ এড়াতে ভেনেজুয়েলান সেনাবাহিনীকেই পিছু হটতে হয়েছে।

রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ত্রাণ নিয়েও ভেনেজুয়েলায় দেখা দিয়েছে বিরোধপূর্ণ অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনপ্রাপ্ত স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হোয়ান গোয়াইদো জানিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলানদের জন্য পাঠানো আন্তর্জাতিক ত্রাণ বিতরণ করতে চান। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বলেছেন, ভেনেজুয়েলা ভিক্ষুক নয়, যে মার্কিন ত্রাণ গ্রহণ করবে। বস্তুত খাদ্য-ওষুধের প্রবল সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলাবাসী আশ্রয় নিচ্ছে প্রতিবেশী কলম্বিয়া, ব্রাজিলের মতো দেশে।

পেমন আদিবাসীরা ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল ও গায়ানা সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত অ্যাঞ্জেল এঞ্জেল ফলস তাদের বসবাসের এলাকায় অবস্থিত। ভেনেজুয়েলা ‘গ্রান সাভানাতে’ (গ্রেট সাভান্নাহ) বসবাস করা পেমনরা আগেও খনির মালিকানা নিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।

গ্রেট সাভানার মেয়র এমিলিও গঞ্জালেজ বলেছেন, জনগণের জন্য অনিবার্যভাবে প্রয়োজনীয় ত্রাণ নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। তার ভাষ্য, ‘আমরা শারীরিকভাবে প্রস্তুত আমাদের অস্ত্র নিয়ে। ত্রাণবাহী গাড়ি চলাচল নিশ্চিতে সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা যেকোনও পদক্ষেপ নিতে পারি। ন্যাশনাল গার্ড হোক আর সরকার হোক, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না।’

অঞ্চলটির একজন কাউন্সিলম্যান জর্জ পেরেজ মন্তব্য করেছেন, ‘বাইরের কয়েকজন জেনারেল আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, তা আমরা হতে দেবো না। আমরাই আমাদের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ।’ তিনি আরও বলেছেন, স্থানীয় হাসপাতালগুলো প্রতিদিনই জানাচ্ছে, তাদের ওষুধ ও অন্যান্য জিনিসপত্রের সংকটের কথা। ভেনেজুয়েলায় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরঞ্জাম না পেয়ে অসুস্থ রোগীদের ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পেমন আদিবাসী গোষ্ঠী

এটি বিব্রতকর। ব্রাজিলের বোয়া ভিস্তার হাসপাতাল ভেনেজুয়েলান রোগীতে ভরা। ব্রাজিলের সীমান্তে অবস্থিত রোরাইমা প্রদেশের রাজধানী বোয়া ভিস্তা। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান আশ্রয় নিয়েছে সেখানে।
রোরামিয়া পর্বত নয় হাজার ২০০ ফুট উঁচু। ভেনেজুয়েলা ও ব্রাজিলের সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বত পেমোন আদিবাসীদের পবিত্র স্থান এবং অনেক ভেনেজুয়েলানের কাছে আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।

ত্রাণকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে তারা একদফা মুখোমুখি হয়েছিল ভেনেজুয়েলান সেনাবাহিনীর। কারণ ব্রাজিল সীমান্তে ভেনেজুয়েলার সান্তা এলেনা ডি উয়ারেন শহরে ঢোকার পথ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল ভেনেজুয়েলান সেনাবাহিনী। এসময় আদিবাসী গোষ্ঠীটির সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দাঁড়ায় এবং ব্যারিকেড অপসারণ করে। ভেনেজুয়েলান সেনাবাহিনী তাদের বাধার মুখে সেখান থেকে সরে যায়।

‘গ্রান সাভানার’ আকুরিমো অঞ্চলে বসবাসরত পেমোনদের নেতা অ্যাঞ্জেল পেরেজ মন্তব্য করেছেন, ‘ত্রাণবাহী ট্রাক যদি এই রাস্তায় ঢুকতে দেওয়া না হয়, তাহলে সরকারি যানবাহনও এই রাস্তায় চলতে পারবে না। জনগণের জন্য যদি কোনও কিছু না থাকে, তাহলে সরকারের জন্যও কোনও কিছু থাকবে না।’