জয়ের নায়ক মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের তিন ম্যাচে কোনো উইকেট না পাওয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা জ্বলে উঠলেন বিকেএসপির ব্যাটিং স্বর্গে। যেখানে নিয়ম করে সেঞ্চুরি করেন ব্যাটসম্যানরা, করলেন গতকালও। জহুরুল ইসলামের সেঞ্চুরিতে বিশাল সংগ্রহ করা আবাহনীর বিপক্ষে রান তাড়ায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সও পাল্লা দিয়ে ছুটছিল ইমরুল কায়েসের তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংসে। কিন্তু দুই সেঞ্চুরিয়ানকে ছাপিয়ে আবাহনীর ২৯ রানে জয়ের নায়ক মাশরাফি ৪৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৬ উইকেট। ‘লিস্ট এ’ ক্রিকেটে তাঁর পাঁচ কিংবা এর বেশি উইকেট পাওয়ার এটি ষষ্ঠ নজির। এর মধ্যে চারবারই নিয়েছেন ৬ উইকেট। এই ধরনের ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি বোলারের যা সর্বোচ্চও।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগের ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জেতা দুই দলের ম্যাচেও ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন একজন পেসার। প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ২৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া মোহাম্মদ শহীদ লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে এনে দিয়েছেন ৭২ রানের সহজ জয়। সাত ম্যাচ খেলে ছয়টি করে জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনীর মতো শীর্ষে এখন রূপগঞ্জও। ফতুল্লায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) সপ্তম রাউন্ডের আরেক ম্যাচে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সাত ম্যাচে চতুর্থ জয়ের দেখা পেয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবও।

৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তাইজুল খেলাঘরকে ১৮৩ রানে আটকে ফেলায় ভূমিকা রাখার পরই ম্যাচটির একপেশে সমাপ্তির অনুমান সত্যিও হয়েছে। তবে বিকেএসপিতে আগের ৬ ইনিংসে মাত্র ৯৩ রান করা ইমরুলের ব্যাটে লড়াইয়ের রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছিল। এর আগে এদিনও থিতু হয়ে আউট হওয়া সৌম্য সরকারকে (৩৬ বলে ২৯) নিয়ে ৬৬ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়া জহুরুল শেষ পর্যন্ত টেনেছেন আবাহনীকে। এই ডিপিএলে আবাহনীর প্রথম ম্যাচেই বিকেএসপির বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান সেদিন পুরো ৫০ ওভারই ব্যাটিংয়ে করেছিলেন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১২১ রান। কাল দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিন ৫০তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ছাড়িয়ে গেলেন সেটিও। ১২৪ বলে সেঞ্চুরির পর রানের গতি বাড়িয়ে ১৩৮ বলে করলেন ১৩০ রান। আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনও খেলেছেন ৭১ রানের সময়োপযোগী ইনিংস।

২৮৬ রান তাড়ায় ইমরুলও পাল্টা জবাব দিচ্ছিলেন। যদিও শুরুতেই বিপজ্জনক রনি তালুকদারকে ফিরিয়ে আঘাত হানা মাশরাফি জমতে দেননি অন্য ওপেনার মাইশুকুর রহমানকেও (১৫)। ৬ ওভারের প্রথম স্পেলে মাশরাফি ২০ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর অবশ্য ৯৩ রানের পার্টনারশিপে গাজীকে আবার পথে ফিরিয়েছিলেন ইমরুল ও শামসুর রহমান। শামসুরের (৩০) রান আউটে ভাঙে ৯৩ রানের এই জুটি। সানজামুল ইসলাম বেশিক্ষণ টিকতে দেননি ভারতীয় অলরাউন্ডার পারভেজ রসুলকেও। তবে ইমরুল ছিলেন বলে আশা ছিল গাজীরও। ৫২ বলে ফিফটি করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ১০০ বলে পৌঁছান তিন অঙ্ক। তৌহিদ তারেকের (৩৯) সঙ্গে তাঁর জমে উঠতে থাকা জুটি ভাঙতে দ্বিতীয় স্পেলে ফেরেন মাশরাফি। ফিরে প্রথম বলে বাউন্ডারি খেলেও পরের বলেই তুলে নেন ১১৮ বলে ১৫ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ১২৬ রান করা ইমরুলকে। পরের ওভারে তাঁর শিকার মেহেদী হাসানও। শেষ স্পেলে এসেও নেন আরো দুটি, যার একটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে থাকা তৌহিদের উইকেট!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী-গাজী গ্রুপ : আবাহনী ৫০ ওভারে ২৮৬/৬ (জহুরুল ১৩০, মোসাদ্দেক ৭১, সৌম্য ২৯; নাসুম ২/৪৭, কামরুল ২/৭০)। গাজী গ্রুপ ৪৮.৪ ওভারে ২৫৭ (ইমরুল ১২৬, তৌহিদ ৩৯, শামসুর ৩০; মাশরাফি ৬/৪৬, সাইফউদ্দিন ২/৬৩)।

ফল : আবাহনী ২৯ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : মাশরাফি বিন মর্তুজা (আবাহনী)।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-প্রাইম দোলেশ্বর  : রূপগঞ্জ ৫০ ওভারে ২৬৫/৯ (নাফীস ৬৮, আকবর ৬৭, নাঈম ৪৩*; ফরহাদ ৪/৫২)। দোলেশ্বর ৪৬ ওভারে ১৯৩ (নাসিম ৬১, ইমরান ৩৭, তাইবুর ৩২; শহীদ ৪/২৩, শুভাশীষ ২/২৮, আকবর ২/২৮)। ফল : রূপগঞ্জ ৭২ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : মোহাম্মদ শহীদ (রূপগঞ্জ)।

শেখ জামাল-খেলাঘর : খেলাঘর ৫০ ওভারে ১৮৩/৯ (মঈনুল ৫৫, অমিত ৪০, তাইজুল ৩/৩৯)। শেখ জামাল ৪২ ওভারে ১৮৫/৫ (ইমতিয়াজ ৪৭, ফারদিন ২৫; তানভীর ২/৩১, রবিউল ২/৪২)।  ফল : শেখ জামাল ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : তাইজুল ইসলাম (শেখ জামাল ধানমণ্ডি)।