বিমানের আরোহীদের কেউই বেঁচে নেই: ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ

আদ্দিস আবাবা থেকে নাইরোবি যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হওয়া ইথিওপীয় বিমান আরোহীদের সবাই মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এয়ারলাইন্স কোম্পানিটির মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, বিমানের আরোহীদের মধ্যে ৩৩টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন।


রবিবার (১০ মার্চ) সকাল পৌনে নয়টার দিকে ১৫৭ জন আরোহী নিয়ে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আদ্দিস আবাবার ৬২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বিশোফটু শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয় এটি।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটের দিকে আদ্দিস আবাবার বোলে বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেছিল ফ্লাইট ইটি ৩০২। এর কয়েক মিনিট পরই (৮ টা ৪৪ মিনিট) নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে,বিমানটিতে ১৪৯ জন যাত্রী ও আটজন কেবিন ক্রু ছিলেন। আদ্দিস আবাবা থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই এটি বিধ্বস্ত হয়। এক বিবৃতিতে ইথিওপীয় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

স্বজনদের অপেক্ষা-২


আফ্রিকার অনেকগুলো এলাকায় ইথিওপীয় এয়ারলাইন্সের বিমানগুলো যাতায়াত করে থাকে। বিবিসির ভাষ্য অনুযায়ী,আফ্রিকা মহাদেশে এ এয়ারলাইন্সের বিমান বেশ জনপ্রিয়। নিরাপত্তার দিক থেকে এগুলোর বেশ ভালো সুনাম রয়েছে। অবশ্য, ২০১০ সালে কোম্পানিটির একটি বিমান বৈরুত থেকে যাত্রা করার পর পরই ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানের ৯০ আরোহীর প্রাণহানি হয়।

এর আগে ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে আদ্দিস আবাবা থেকে নাইরোবি যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছির ইথিওপীয় এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। ওই বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপরও বিমানটি জরুরিভাবে পানিতে অবতরণের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন পাইলট। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটি ভারত মহাসাগরে একটি প্রবাল প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে বিমানে থাকা ১৭৫ আরোহীর মধ্যে ১২৩ জন প্রাণ হারায়।