কিডনী রোগের ১০টি গুরুত্বপুর্ণ পূর্বলক্ষণ

কিডনি রোগের উপসর্গ গুলোর সাথে অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার উপসর্গের মিল আছে। কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা থাকলে সেই অনুযায়ী নিরাময়ের ব্যবস্থা নেয়াও সহজ হয়। আপনার নিজের বা পরিচিত কারো যদি কিডনি রোগের এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে তাঁর কিডনির সমস্যা আছে কিনা। আজকে আমরা ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিব।  

কিডনি রোগের  বিভিন্ন উপসর্গঃ

কিডনি রোগ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন রোগটি নিরাময়ের মূল শক্তি। লক্ষণের দুর্বোধ্যতার জন্য ক্রনিক কিডনি রোগে ভুগছেন এমন অনেকেই জানেন না যে তার এই রোগটি আছে। আসুন জেনে নিই এ রোগের গুরুত্বপুর্ণ কয়েকটি লক্ষণ সম্পর্কে।

১। ঘন ঘন মূত্রত্যাগ বা প্রস্রাবের বেগ হওয়া 

যদি কারও প্রায়ই বিশেষ করে রাতের বেলায় ঘন ঘন মূত্রত্যাগ বা প্রস্রাবের বেগ হয় তাহলে এটা কিডনি রোগের লক্ষণ। কিডনির ছাঁকনি গুলো নষ্ট হয়ে গেলে প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ঘন ঘন মূত্রত্যাগ ইউরিন ইনফেকশনেরও পূর্ব লক্ষণ। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্লেন্ড বড় হয়ে গেলেও এ ধরনের  উপসর্গ দেখা দিতে পারে।  

২। চোখের চারপাশে ফুলে যাওয়া

কারও কিডনি যদি অনেক বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে প্রস্রাবের সাথে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বের হতে পারে। এর ফলে তাঁর চোখের চারপাশে ফুলে যেতে পারে।   

৩। পায়ের পাতা  গোড়ালি ফুলে যাওয়া  

কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। ফলস্বরূপ রোগীর পায়ের পাতা এবং গোড়ালি ফুলে যায়। এই পায়ের নীচের অংশ ফুলে যাওয়া হৃদরোগ ও লিভারের জটিলতা নানাবিধ দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি করতে পারে।  

 শরীরের চামড়া শুষ্ক  ফেটে যাওয়া

কিডনি সুস্থ অবস্থায় অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কাজ করে যেমন শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল বাহির করা, লাল রক্ত কণিকা তৈরি করা, হাড়কে শক্তিশালী করা,দেহে খনিজ লবণের ভারসাম্য রক্ষা করা ইত্যাদি। কিডনি যখন রক্তের পুষ্টি উপাদান ও খনিজ লবণের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেনা তখন শরীরের চামড়া শুষ্ক ও ফেটে যেতে পারে যা অ্যাডভান্স কিডনি রোগের সাথে সম্পর্কিত।

 প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া

কিডনি সুস্থ অবস্থায় রক্ত কণিকাগুলোকে শরীরের ভিতরে ছেঁকে রেখে বর্জ্য পদার্থ মূত্র হিসেবে বের করে দেয়। যদি কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে প্রস্রাবের সাথে রক্ত কণিকা বের হতে শুরু করে। ফলে প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে পারে। রক্ত যাওয়ার এই লক্ষণ কিডনি রোগের সাথে সাথে টিউমার, কিডনি পাথর বা ইনফেকশনেরও ইঙ্গিত বহন করে।  

 প্রস্রাবে বেশি ফেনা দেখা দেয়া

প্রস্রাবে অনেক বেশি ফেনা দেখা দিলে বুঝতে হবে যে, প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ যাচ্ছে। ডিমের সাদা অংশ ফাটানো হলে যেমন ফেনা হয় প্রস্রাবের এই বুদবুদ ও ঠিক সেই রকম। প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিনের উপস্থিতির জন্য এমনটি হয়। কিডনির ফিল্টার ড্যামেজ হয়ে গেলে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ লিক হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হতে থাকে। এর ফলে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়।  

 অনেক বেশি ক্লান্ত ও শক্তিহীন অনুভব করা

কিডনির কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে রক্তে অপদ্রব্য হিসেবে টক্সিন তৈরি হয়। এজন্য দুর্বল ও ক্লান্ত লাগার পাশাপাশি যে কোন বিষয়ে মনোযোগ দেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে  শরীরে অন্য জটিলতা, যেমন রক্তশূন্যতা বা এনেমিয়াও দেখা দিতে পারে।  আর এই রক্তস্বল্পতার কারণেও দুর্বলতা বা অবসাদ গ্রস্থতার সৃষ্টি হতে পারে।  

 নিদ্রাহীনতা বা ঘুমের সমস্যা হওয়া

যদি কিডনি রক্ত পরিশোধন ঠিক মতো না করতে পারে তাহলে রক্তের টক্সিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে পারেনা। এর ফলে বিষাক্ত টক্সিন রক্তেই থেকে যায়। এর ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই অতিমাত্রায় নিদ্রাহীনতা ক্রনিক কিডনি ডিজিজের উপসর্গ হতে পারে। এছাড়া অবেসিটি বা স্থূলতার সাথেও ক্রনিক কিডনি রোগের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

 অতিমাত্রায় ক্ষুধা কমে যাওয়া

শরীরে টক্সিনের উৎপাদন বেড়ে গেলে কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়। এর ফলে রোগীর ক্ষুধার পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।

১০ মাংসপেশীতে খিঁচুনি হওয়া

কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের যেমন- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা কমে গেলে দেহে এসব উপাদানের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এই ভারসাম্যহীনতার জন্য মাংসপেশিতে খিল লাগা বা খিঁচুনি জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও বমি বমি ভাব, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, সব সময় ঠান্ডা অনুভব করা, মাথা ঘোরা, কোমর ও পায়ে ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ গুলোও দেখা দিতে পারে।