চলচ্চিত্র দিবস, প্রদর্শনহাল ও আমাদের প্রত্যাশা

পৃথিবীতে চলচ্চিত্রের তিন ধরনের ভিউয়িং পদ্ধতি (প্রদর্শন ব্যবস্থা) চালু আছে। কমিউনিটি ভিউয়িং (প্রেক্ষাগৃহে বা মিলনায়তনে), ফ্যামিলি ভিউয়িং (টেলিভিশন বা হোম থিয়েটারে) এবং পার্সোনাল ভিউয়িং (ল্যাপটপে বা স্মার্টফোনে)। বলা বাহুল্য, পৃথিবীজুড়েই এখন কমিউনিটি ভিউয়িংয়ের সংখ্যা কমছে, আর বাড়ছে পার্সোনাল ভিউয়ের পরিমাণ। ১০০ চ্যানেল সমৃদ্ধ কেবল টিভি আর ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা আইফ্লিক্সসহ অসংখ্য ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্মের যুগে ৬০০ থেকে ৮০০ সিটের সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো বাঁচানো এমনিতেই আর সম্ভব হবে না। কারণ সময়টা মাল্টিপ্লেক্স বা সিনেপ্লেক্স। সময়ের সঙ্গে জীবনধারণের পদ্ধতি বদলাবে, বিনোদনের ধারণা বদলাবে, মাধ্যম পরিবর্তিত হবে, প্রযুক্তির পরিবর্তন হবে, পরিমার্জিত হবে, সংযোজন-বিয়োজন হবে– এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেদের আপডেট না করলে যা হয় তারই মুখোমুখি এখন আমাদের গোটা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এবং এর প্রদর্শন ব্যবস্থা। আজকে ২০১৯-এর ৩ এপ্রিল আমরা যখন জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন করছি, তখন প্রতিমুহূর্তেই আমাদের মনে পড়বে আমাদের প্রদর্শক সমিতি ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানির নীতিমালা শিথিল করার দাবিতে ১২ এপ্রিল থেকে সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা গতকাল তুলে নিয়েছেন। প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হচ্ছে না। কিন্তু কীভাবে হচ্ছে এর সমাধান?


যদিও আমি মনে করি প্রদর্শকদের আগে আসলে নির্মাতা-প্রযোজকদের এই সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো বয়কট করা উচিত ছিল। যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্র প্রদর্শনের যথাযথ পরিবেশ নেই, যেখান থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পুঁজি ফেরত আসে না, সেখানে চালানোর জন্যে, জেনেবুঝে আর্থিক ক্ষতি মেনে নেওয়ার জন্যে চলচ্চিত্র নির্মাণ করারই বা উদ্দেশ্য কী! আর হলের পরিবেশ বা প্রদর্শন ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে অবাধে ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি করা গেলেই কী সব দর্শক হুড়হুড় করে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া শুরু করে দেবেন? ব্যাপারটা বোধহয় এত সহজ জায়গায় আর নেই।
তবে এরপরও এ মুহূর্তে ব্যক্তিগতভাবে আমি আসলে হতাশ নই। মনে হচ্ছে, একটু দেরি করে হলেও এখনই সমাধানের সময় এসেছে। হতাশার শেষ প্রান্তেই হয়তো দেখা দেয় নতুন আশার আলো। তবে সমাধানের পথ খোঁজার আগে আমাদের ভাবতে হবে সংশ্লিষ্ট সবকিছু নিয়ে। কোনও শর্টকাট সমাধানের পথ আমাদের কোথাও পৌঁছাবে বলেও মনে হয় না। সংকট আমাদের সব জায়গায় গেড়ে বসে আছে। তাই পারস্পরিক দোষারোপের প্রক্রিয়াটা বাতিল করে দিয়ে, সম্মিলিতভাবে একটি একটি করে এর জট খুলতে হবে। আর এসব বিষয়েই সবার আগে প্রয়োজন হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।


প্রথমইে আসা যাক মৌল অবকাঠামোর বিষয়ে। চলচ্চিত্রকে ঘোষণা করা হয়েছে শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি অর্থে), আছে এটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে, আদতে এটি সংস্কৃতি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বয়স হয়েছে ৬২ বছর, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি ৪৮ বছর। কিন্তু আজ অবধি আমাদের একটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্রকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আজ অবধি পাস হয়নি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা’।


প্রতিযোগিতাহীন খালি মাঠ পেয়ে যেদিন থেকে সমাজ ও পরিবারনির্ভর গল্প থেকে বেরিয়ে আমাদের নির্মাতাগণ (চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, প্রযোজক সকলেই) আজগুবি ফ্যান্টাসির দিকে ধাবিত হলেন সেদিন থেকেই এর নিম্নগামিতার শুরু। এছাড়া, আশি’র দশকে বিকল্প ধারা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যে ধারাটি সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে এসেছে, বাংলাদেশের প্রযোজক ও প্রদর্শন ব্যবস্থা কখনো তাদের স্বাগত জানায়নি। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করা একটি দেশের সংস্কৃতির প্রধান বাহক ও জনপ্রিয় এই মাধ্যমটি ১২০০ প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে এগিয়ে গেছে সৃজনশীলতা ও প্রকৃত সৃজনশীল মানুষকে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে। যার ধারাবাহিকতা একসময় মেধাশূন্যতায় গিয়ে ঠেকেছে। আর চলচ্চিত্রের নামে রুচিহীন চলমানচিত্র তৈরি ও প্রদর্শন করে ক্রমাগত বিদায় করা হয়েছে মধ্যবিত্ত রুচিবান দর্শককে, যারা ছিল চলচ্চিত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। চলচ্চিত্রকে ব্যবসা বুদ্ধির বাইরে গিয়েও যে সমাজ ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে দেখবার প্রয়োজন ছিল সেটা প্রাতিষ্ঠানিক বলয় থেকেও সেভাবে দেখবার অবকাশ হয়নি। এফডিসি কিংবা সেন্সর বোর্ড আমাদের সেসব কথাই মনে করিয়ে দেয়। অনুদান প্রথা ও অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। সে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শনে অনীহা দেখানো প্রদর্শকদেরও কখনও সামাজিক বা সাংস্কৃতিক দায় নিতে হয়নি। এর চাইতে তারা দর্শককে অশ্লীল সিনেমা ‘খাওয়াতে’ বেশি আগ্রহ বোধ করেছেন।


চলচ্চিত্র বিনোদনেরও একটি বড় উৎস। কিন্তু বিনোদনও চিন্তাশীল হতে পারে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভর করে শিল্পের সব শাখা যেখানে এসে মিলিত হয় সেটি চলচ্চিত্র। তাই এটিকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম মনে করলেও এর শক্তিমত্তার দিকটি উপেক্ষিত থেকে যায়। এর ব্যাপকতাকে যেমন ধারণ করা যায় না, তেমনি কাজেও লাগানো যায় না। একজন নির্মাতারও (এবং সংশ্লিষ্ট আরো অনেককে) শুধু শিল্পের সব শাখার ওপর দখল থাকলেই চলে না, তাকে যথেষ্ট প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন যেমন হতে হয়, তেমনি সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম ও দর্শনসহ ধারণা থাকতে হয় জীবন ও সংস্কৃতির প্রায় সকল বিষয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে যে দেশের ইন্ডাস্ট্রি থেকে ফি বছর ৬০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে সে দেশে জাতীয়ভাবে প্রশিক্ষিত নির্মাতা ও কলাকুশলী তৈরির জন্যে একটিও চলচ্চিত্রবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়নি।
সৃজনশীল মানুষ ইনস্টিটিউটে যাওয়ার প্রয়োজন মনে নাও করতে পারেন। কিন্তু প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্যে খানিকটা পদ্ধতিগত জ্ঞান সবার জন্যেই জরুরি। বেশ কয়েকটি সংগঠন থাকার পরেও প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের আপডেট করার জন্যে কখনোই কোনও কর্মশালা বা প্রশিক্ষণের আওয়াজ শোনা যায় না। অথচ চিত্রনাট্য তৈরি থেকে শুরু করে, প্রযোজনা, নির্দেশনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, শব্দগ্রহণ, ব্যবস্থাপনাসহ ডিজিটাল মাধ্যমটিকে আত্মস্থ করার জন্যে অনেক রকমের জানা-বোঝার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এবার আসা যাক প্রদর্শকদের চলমান দাবি প্রসঙ্গে। আমরা জানি, আমাদের বাজার ছোট, তাই বাজেটও ছোট। কিন্তু দর্শকের তো চোখ খোলা। কেবল টিভি, ইউটিউব আর অ্যাপনির্ভর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে নানা দেশের চলচ্চিত্র এমনিতেই দেখার সুযোগ হয় সবার। যে কারণে অজান্তেই একটা তুলনা চলে আসে। সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এটাও সত্যি, প্রতিযোগিতার সুযোগ না থাকলে প্রতিযোগীর কোনও উন্নয়ন ঘটে না। এরপরও স্বাধীনভাবেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। শুধু জীবনঘনিষ্ঠ ও সৃজনশীল চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে নির্মাতাগণ উৎসবে আর প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন, তাই নয়। বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্রগুলোও আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিতই জায়গা করে নিচ্ছে। শুধু নিজেদের বাজার নিজেদের জন্যে ছোট হয়ে এসেছে ক্রমে।
‘ডিম আগে না মুরগি আগে’– এরকম অর্থহীন বিতর্কে যাওয়ার কোনও সময় আর অবশিষ্ট নেই। অবধারিতভাবেই সবার আগে যা দরকার তা হলো চলচ্চিত্র প্রদর্শনের স্থান ও সুস্থ পরিবেশ। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্যে যেমন ফিটনেস ঠিক থাকা গাড়ির আগে সড়ক ও সেতু সচল থাকা জরুরি তেমনই সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার জন্যেও আগে সংস্কৃতি চর্চার স্থান ও পরিবেশ ঠিক থাকা জরুরি। প্রতিটি শপিংমলে, প্রতিটি জেলায় মাল্টিপ্লেক্স থাকা প্রয়োজন। পুরনো হলগুলো সংস্কার করে সিনেপ্লেক্স করা প্রয়োজন, যেখানে অবশ্যই আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রদর্শন ব্যবস্থাসহ ২০০ আসনের কমপক্ষে ৩টি করে থিয়েটার থাকবে। যেখানে ৩ ধরনের ৩টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। দেখবার বেলায় দর্শকের বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।


সে অনুযায়ী দেশের প্রেক্ষাগৃহে বিদেশি চলচ্চিত্র আমরাও দেখতে চাই। কেবল আমদানি করা ভারতীয় বা হলিউডের সিনেমাগুলোই দর্শক দেখতে চায়, এমন নয়। পৃথিবীর সব দেশের সব ভাষার চলচ্চিত্র দেখতে চাই। যথাযথ নীতিমালার মধ্যে এর একটা প্রদর্শন সংখ্যার অনুপাত মেনে এবং যথাযথ কর প্রদানের আওতায় সেসব প্রদর্শিত হবে। কেবল টিভি, ইউটিউব আর নেটফ্লিক্সের কল্যাণে ঘরে বসে আমরা এমনিতেই সারাবিশ্বের ছবি দেখতে পাই। হিন্দি-তামিল কোনোটাই কেউ বাদ রাখে না। তাই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জুজুর ভয় যারা এখনও দেখান, তারা দেখতে পান না আগ্রাসনটি আরো অনেক আগেই ঘটে গেছে। এখন বরং সেখান থেকে মুক্তির পালা। উপমহাদেশের চলচ্চিত্র থেকে প্রভাবমুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক হয়ে ওঠা।


আশা করতে চাই, প্রদর্শকগণ শুধু অবাধে বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানিতেই মনোযোগ দেবেন না। নিজেদের প্রেক্ষাগৃহের প্রদর্শন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করে, ই-টিকেটিং ও বক্স অফিসের ব্যবস্থাও করবেন। কারণ প্রদর্শকদেরও মনে রাখতে হবে, প্রযোজক লগ্নিকৃত পুঁজি ফিরে পেলেই নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সমর্থ হবেন।
বক্স অফিস ও ই-টিকেটিংয়ের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী যে কোনও দেশকে উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতি ও চলচ্চিত্রের জন্যে অপেক্ষাকৃত ছোট বাজারের দেশ নেপালেও ১৪০টি প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে ৫৮টি আধুনিক সিনেপ্লেক্স রয়েছে। রয়েছে বক্স অফিস ও ই-টিকেটিং ব্যবস্থা। একজন প্রযোজক নিজের স্মার্টফোনে অ্যাপের মাধ্যমে মুহূর্তেই দেখে নিতে পারেন কোন প্রেক্ষাগৃহে, কোন প্রদর্শনীতে কয়টি টিকেট বিক্রি হয়েছে।


গত ডিসেম্বরে বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্সের উদ্যোগেই চালু হবে ২০টি মাল্টিপ্লেক্স। পরিবর্তনের হাওয়া যেহেতু লাগছে, তখন আমরা বরং আশা করতে চাই, পরিবেশক ও প্রদর্শকগণ দ্রুতই বক্স অফিস আর ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে এফডিসি ও সেন্সরবোর্ডকেও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।
উপসংহারে আবারও লিখছি, সমাজ যদি শরীর হয় সংস্কৃতি তার মুখাবয়ব। সংস্কৃতি প্রদর্শনের জায়গা না থাকলে সংস্কৃতি চর্চা হবে না। অপসংস্কৃতি সে জায়গা দখল করবে। আমরা একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ জনগোষ্ঠী আশা করি, কিন্তু শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয় যে সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা না করলে সমাজ কখনও শৃঙ্খলার দেখা পাবে না।


মানুষের সামনে দেখার অপশন এখন অনেক। নিজেদের কিছু দেখবার মতো না থাকলে অন্যেরটাই দেখবে। চোখ কখনও দেখা বন্ধ রাখবে না। ভালো কিছু দেখতে না পারলে মন্দটাই দেখবে। ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের এই শক্তিমত্তার দিকটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বোঝার চেষ্টা করে চলচ্চিত্রের সকল সংকট দূর করতে যথাযথ প্রজাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেখবার প্রত্যাশা।
সবাইকে চলচ্চিত্র দিবসের শুভেচ্ছা।

লেখক: চলচ্চিত্র নির্মাতা