ত্বকের যত্নে ডাবের পানির কতিপয় ব্যবহার

পুষ্টিগুণ ছাড়াও  সৌন্দর্য্য চর্চায় ডাবের পানির বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটিএসিড, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম জাতীয় উপাদান থাকে যা ত্বকের যত্নে খুবই উপকারী। আসুন জেনে নিই ত্বকের যত্নে ডাবের পানির বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে।

ত্বকের যত্নে ডাবের পানির ব্যবহার

১। ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতেঃ

দিনের বেলায় সূর্যের তাপে ও পরিবেশের অন্যান্য তারতম্যের কারণে আমাদের ত্বকের আদ্রতা কমে যায়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতিও দেখা দেয়। ডাবের পানি পান করার মাধ্যমে আমরা সহজেই এই প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পেতে পারি। এছাড়া প্রাকৃতিক ময়েশচারাইজার হিসাবেও এটি ব্যবহার করা যায়। বাহ্যিকভাবে ডাবের পানির ব্যবহার তৈলাক্ত ও আঠালোভাব দূর করে ত্বককে নমনীয় রাখতেও ভুমিকা রাখে।

২। ফেসওয়াস হিসেবে:

ফেসওয়াস হিসাবেও শুধু ডাবের পানি ব্যবহার করা যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাওয়ার সময় অর্থাৎ প্রতিদিন দুইবার নারিকেলের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে মুখমণ্ডলে জমে থাকা ময়লা এবং গভীরে লুকানো জীবাণু ধ্বংস করে উজ্জ্বল ও রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

৩। ফেসমাস্ক হিসেবে:

নারিকেলের পানির সাথে হলুদ এবং চন্দন গুড়া মিশিয়ে ফেসমাস্ক তৈরি করা যায়। ফেসমাস্কটি তৈরি করতে এক টেবিল চামচ হলুদ ও চন্দনের গুড়া নিয়ে তাতে তিন থেকে পাঁচ টেবিল চামচ নারিকেলের পানি মিশিয়ে নিতে হবে। এই মেশানো উপাদানগুলো মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে শুধু ত্বকের ময়লাই কাটবেনা, ত্বক হয়ে উঠে অনেক কোমল এবং উজ্জ্বল।

৪। ব্রণ  একজিমা প্রতিরোধে:

ডাবের পানি প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা ও ক্ষারতা দূর করতে সহায়তা করে। তাই এটি ব্রণ নিরাময়ে খুবই কার্যকর। এছাড়া এতে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক বিরোধী ক্ষমতা। একজিমা হচ্ছে চামড়ায় র‍্যাশসহ লাল হয়ে যাওয়া ও চুলকানি সৃষ্টিকারী রোগ। ডাবের পানিতে পটাসিয়াম, লরিক এসিড, এন্টি-অক্সিডেন্ট ইত্যাদি প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে যা একজিমা প্রতিরোধে পরোক্ষভাবে খুবই সহায়তা করে থাকে।

৫। ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধে:

ডাবের পানিতে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধকারী “সাইটোকাইনিন” নামক উপাদান থাকে যা চামড়ার ভিতর থেকে শরীরকে সজীবতা প্রদান করে। তাই নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে তা ত্বকের কুঁচকে যাওয়া, বলিরেখা ও ক্ষত দূর করে দেহে প্রাণচাঞ্চল্য আনতে সহায়তা করে।

 

ডাবের পানি একটি অলৌকিক পানীয়। গরমের দিনে এ পানি তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ও শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগান দেয়। এতে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। এতে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। তাই সৌন্দর্য্য চর্চার পাশাপাশি দেহের পুষ্টি ও রোগ নিরাময়ে নিয়মিত ডাব খাওয়া উচিত।