বাংলাদেশ ব্যাংকের বইয়ে ইতিহাস ‘বিকৃতি’, রায় ২৪ এপ্রিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস বইয়ে ‘বিকৃতি’ বিষয়ে করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ২৪ এপ্রিল এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এবিষয়ে শুনানি শেষ হলে আদালত রায়ের এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আইনজীবী মো. আজিজ উল্লাহ ইমন ও শুভঙ্কর সাহার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যোবায়ের রহমান।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইতে বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপিয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি ছাপানো হয়।

এরপর এবিষয় নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ইতিহাস বিকৃতি অভিযোগ তুলে এফবিসিসিআই পরিচালক কাজী এরতেজা হাসান হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

সে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই বইটিতে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে কিনা তার তদন্তের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এবং তদন্ত করে এবিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং রুল জারি করেন।

আদালত তার রুলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করে ইতিহাস বিকৃতি করা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চান।

পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত অনুসন্ধান কমিটি হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

সে প্রতিবেদনে ইতিহাস বিকৃতির দায়ে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইটি প্রকাশনার সাথে সম্পৃক্ত ছয় কর্মকর্তাকে দায়ী করে বলা হয়, ‘বইটি প্রকাশের জন্য গঠিত গবেষণা কমিটি ও সম্পাদনা কমিটির কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল।’

অনুসন্ধান কমিটির দেওয়া এই প্রতিবেদনের উপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বইটির সম্পাদক শুভঙ্করসাহাকে হাইকোর্টে তলব করেন। এ আদেশ অনুযায়ী শুভঙ্কর সাহা ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইতে বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপানোর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।

এ সময় আদালত শুভঙ্কর সাহাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে রিলেটেড এমন বঙ্গবন্ধুর ছবি তো ছিল। কিন্তু ওই বইতে দেওয়ার মতো বঙ্গবন্ধুর একটা ছবিও আপনারা পেলেন না?’ আদালত আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবি না দিয়ে ছাপানো আগের বইগুলোর কী অবস্থা? সেগুলো কী করা হয়েছে?

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এফিডেবিট আকারে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়ে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামি ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

সে ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয় প্রথম প্রকাশিত বইটি বাতিল করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিতরণ হওয়া ২৫৫ কপি বই ফেরত নেওয়া হয়েছে এবং বাকি কপিগুলো ফেরত নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

এরপর আদালত এবিষয়ে শুনানি শেষ করে রায়ের জন্য ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।