ভাত সম্পর্কে এই ধারণাগুলো সত্য কতটুকু?

সারাদিন যা খাওয়া হোক না কেন, এক প্লেট ভাতই যেন লুকিয়ে সব শান্তি। ভাত ভালোবাসেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। কিন্তু মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে কিংবা অন্যান্য রোগ আক্রমণের ভয়ে অনেকেই ভাত খান না খুব একটা।

● ভাত নিয়ে অনেক প্রচলিত ধারণা রয়েছে যা মোটেও ঠিক নয়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাত খুবই উপকারী একটি খাদ্য। ভাত নিয়ে কিছু তথ্য বরং জেনে নেওয়া যাক-

● অনেকেই ভাবেন, ভাত খেলে শরীরের ফ্যাট বেড়ে যায়। আসলে কিন্তু তা নয়। ভাতে থাকে কার্বোহাইড্রেট। এটিই দীর্ঘদিন জমে পরিণত হয় ট্রাইগ্লিসারাইডে। এরপর শরীরই তাকে পরিণত করে ফ্যাটে। তাই বলে, ভাত খেলেই যে কার্বোহাইড্রেট জমে ভুঁড়ি বাড়বে, এই ধারণা ভুল।

● ভাত খেলেই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়বে এমন ধারণাও ঠিক নয়। মজার তথ্য হলো ভাতে কোলেস্টেরলই থাকে না। তাই এমন সমস্যায় নির্দ্বিধায় ভাত খেতে পারেন।

● আজকাল অনেকেই গ্লুটেনের সমস্যায় ভোগেন। গ্লুটেন অ্যালার্জি এড়াতে চাইলে ভাত খান। এক্ষেত্রে এর চাইতে উপকারী আর কিছু নেই।

● ভাতে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড। আর দেহের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এটি বেশ জরুরী।

● ভিটামিন বি এ পরিপূর্ণ একটি খাদ্য হলো ভাত। অর্থাৎ, শরীরের কোষ সুস্থ রাখতে এটি বেশ দরকারী।

● ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রয়েছে এমন ব্যক্তিরা চাইলে ভিন্ন উপায়ে ভাত খেতে পারেন। ভাত রান্না করে সারারাত ফ্রিজে রেখে দিন। পরদিন ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করবেন না। ঘরোয়া তাপমাত্রায় এনে গরম তরকারী দিয়ে খান। সারা রাত ঠান্ডায় থাকার ফলে বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভাতের বায়োলজিক্যাল অ্যাভেলেবিলিটি কমে। শরীর সেই ঠান্ডা ভাতের পুরোটা গ্রহণ করে না।

● ডায়েটে রয়েছে এমন ব্যক্তিরা ব্রাউন রাইস খেয়ে থাকেন। সাদা ভাতের তুলনায় ব্রাউন রাইসে রয়েছে বেশি পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার। কিন্তু অনেকেই ব্রাউন রাইস পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে রোজ সিদ্ধ চালের সাদা ভাত খেতে পারেন। তবে সিদ্ধ, ঢেঁকি ছাঁটা, কালো… যে ধরনের চাল থেকেই ভাত তৈরি হোক না কেন, পরিমাণে রাখুন সীমিত।

আপনি ভাতপ্রেমী হলে, খেতে পারেন নিয়মিত। তবে তা যেন স্বল্প পরিমাণে হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এতে করে ভাত খেয়েও আপনি থাকবেন একদম স্লিম।