সুদানের সামরিক অভ্যুত্থানে ৩০ বছরের ক্ষমতা হারালেন বশির

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে বৃহস্পতিবার সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চারপাশে সেনা মেতায়েন করা হয়েছে।

রুটির দামবৃদ্ধিতে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে সুদানের রাজধানী খারতুমসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন সুদানের হাজার হাজার নাগরিক। এ নিয়ে দেশটির পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে। প্রায় চার মাস ধরেই সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।

এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। মনবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিক্ষোভে সেখানে অন্তত ৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানায় ভয়েস অব আমেরিকা।

সরকারবিরোধী সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ভিন্ন দিকে মোড় নেয় গত মঙ্গলবার। এদিন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে অন্তত ১১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ছয় সদস্যও রয়েছেন। পুলিশের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ও এ বিক্ষোভ ও প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে।

সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভের শুরু মূলত জ্বালানি ও রুটির দাম বৃদ্ধির এক সরকারি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘোষণায় রুটির দাম ২ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ৬ সেন্ট করা হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাও ক্ষুব্ধ করে জনগণকে। ফলে রাজপথে নেমে আসেন তারা। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে সরাতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিক্ষোভকারীরা। তবে সেনাবাহিনী দৃশ্যত প্রেসিডেন্টের পক্ষে থাকায় সম্প্রতি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেনাসদরের সামনে অবস্থানের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার সেনা অভ্যুত্থানের খবর আসে।