সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে সরকারের বিজয়ের কোন সম্ভাবনা নেই: নজরুল ইসলাম খান

সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেও যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া হয় তাহলে সরকারের বিজয়ের কোন সম্ভাবনা নাই। কারণ মানুষ বন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য বিএনপিকে ভোট দেবে।

মঙ্গলবার বাদ আসন নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণ দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখতে চায়। কারও সমর্থন যদি বেশি হয় তারা নির্বাচনে জিতবে, ক্ষমতায় যাবে। তাতে জনগণের আপত্তি থাকবে না।

কিন্তু ভোটের আগের রাতে ব্যালট কেটে বাক্স ভর্তি করে আপনি জিতে যাবেন আর বলবেন আপনার জনপ্রিয়তা বেশি। এটা দেশের কোন লোক বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করা হয়েছে ভোটারদের। তারা যখন ভোটকেন্দ্রে গেছেন ভোট দিতে তখন তাদের বলা হয়েছে আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আবার কাউকে বলা হয়েছে, ব্যালট পেপার নাই।

কারো আঙ্গুলে কালি দিয়ে বলা হয়েছে আপনি চলে যান। এতে ভোটাররা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছে। এর প্রমাণ হয়েছে উপজেলা নির্বাচনে। এই যে ভোটের প্রতি মানুষের অনীহা সৃষ্টি করা হল, এটা হলো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্ত।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন না থাকলে গণতন্ত্র থাকে না। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তার রায় দেয়। আর জনগণের রায়ে যারা দায়িত্ব নেয়, তারা হলো গণতান্ত্রিক সরকার। কাজে আমাদের দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার নাই।

নোংরা কৌশল তো তারা করবেই। কারণ ভালো কোন কৌশলে বিজয়ের সামর্থ্য তাদের নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যাকে মায়ের মর্যাদা দিয়েছেন সেই বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এটা তার প্রাপ্য। একজন মানুষ হিসেবে একজন নেত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটা তার প্রাপ্য। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি স্ত্রীর হিসেবে তার প্রাপ্য।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। একটি টিভি চ্যানেলে ম্যাডামের সাথে যে মেয়েটি থেকে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করছে তার বাবাকে দিয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। এ চ্যানেলটিকে আমরা চিনি। তাদের প্রতিদিনের খবর দেখলে আপনারা বুঝবেন তারা কার জন্য কাজ করে। এ কাজ তো তারা তাদের জন্যই করেছে।

আমি সাথে সাথে দলের মহাসচিব কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে একটা ব্যাপার সোনা গেলো এটা কি? মহাসচিব বললেন ১০০ ভাগ মিথ্যা একটা রিপোর্ট করা হয়েছে। সম্ভবত বেচারা গরিব মানুষ তাকে ম্যানেজ করে রিপোর্টটা চালানো হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে তার প্রাপ্য টাকা দেওয়া হয়েছে।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল প্রমুখ।