জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশকে নতুন পথ দেখিয়ে গেছেন: মির্জা ফখরুল

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অস্তিত্ব মিশে আছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনিই বাংলাদেশের নতুন পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি তার ১৯ দফার দর্শনে বাংলাদেশের সবকিছু তুলে ধরেছেন। যারা স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে দাবি করে তারা সেদিন দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল।

অর্থনীতি আবদ্ধ করে রেখেছিল। শহীদ জিয়া সেসব মুক্ত করে দেশের মানুষকে নতুন পথ দেখিয়ে গেছেন। সে পথেই আজকে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন তিনি। গতকাল (বুধবার) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল সকলকে জিয়াউর রহমানের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো বিভক্তি বা বিভাজনের চিন্তা না করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আজকে খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী। যারা গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারে বিশ্বাস করে না, তারা আজকে বেগম জিয়াকে কারান্তরীণ করে রেখেছে। আর এটা করেছে একটি কারণে, তারা বেগম জিয়াকে ভয় পায়।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনটি জীবনের অধিকারী। একজন সৈনিক হিসেবে। কারণ তিনি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি সফল। শুধু তাই নয় রাজনীতিবিদ হিসেবে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং একটি দর্শন দিয়ে গেছেন। সবক্ষেত্রেই তিনি সফল। সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমও তিনি সংযোজন করেছেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, শহীদ জিয়া কঠিন সময়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসেন একজন তরুণ আর্মি অফিসার হিসেবে। একবার স্বাধীনতা যুদ্ধকালে আরেকবার ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব ঘটানোর মধ্যদিয়ে তিনি আবির্ভূত হন। তিনি একজন অনুসরণীয় রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম সরোয়ার, যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরুসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম সভা পরিচালনা করেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রফিক সিকদার, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিকদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।#

এদিকে বিকালে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক কল্যাণ পার্টির আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যত প্রতিবন্ধকতাই আসুক ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই বন্ধ হবে না’। তিনি বলেন, আমাদের অনেকে আজকে হতাশায় ভোগছেন। আমি মনে করি হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নাই। হতাশা কখনো আমাদেরকে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবে না।

আমাদের লক্ষ্য একটাই- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা, অগণিত নেতাকর্মী যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদেরকে মুক্ত করা এবং এই দুঃশাসন অবসান ঘটানো। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ভবনের মিলনায়তনে শরিক কল্যাণ পার্টির পক্ষে দলটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন।

এতে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির তৈমুর আলম খন্দকার, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য আজাদ মাহবুব, মো. ইলিয়াস, ফোরকান ইবরাহিম, ভাইস চেয়ারম্যান নুরউদ্দিন, সাহিদুর রহমান তামান্না, মাহমুদ খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।