সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে আদালতে আবেদন করেছেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশে নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া এবং আপত্তিকর প্রশ্ন করায় সোনাগাজীর সাবেক ওসির বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি।’

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি।

সেই মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা।

আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান।

নুসরাত মারা যাওয়ার আগেই ১০ এপ্রিল হত্যাচেষ্টা মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এ স্থানান্তর করা হয় এবং সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

কারণ হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফেনীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনার পর মোয়াজ্জেম হোসেনের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানানো হয়।