দাফনের পর ফিরে এলেন আসল গোলাপি!

গত ৩০ মে নিখোঁজ হয়েছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগম (৪০)। খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে থানায় জিডি করেন তার ভাসুর। পরে পাশের গ্রামের ভুট্টাখেত থেকে গত সোমবার মুখে মবিল মাখানো অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি গোলাপি বেগমের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।

১১ জুন, মঙ্গলবার তার দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু ১২ জুন, বুধবার ঘটলো বিস্ময়কর ঘটনা। কারণ গোলাপি ভেবে পুলিশের উদ্ধারকৃত মৃতদেহ দাফন হলেও হঠাৎই ‘আসল’ গোলাপি এসে হাজির। এতে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- মৃত নারীটি তাহলে কে? ঘটনাটি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামে ঘটে।

অবশ্য বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী জানান, প্রকৃত গোলাপি বেগম ফিরে আসায় ওই লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ফিরে আসা গোলাপি বেগম বলেন, ‘ঈদের আগে ২৯ মে রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। এ টাকা নেওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে পরের দিন বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাই। পরে ছয় বছরের সন্তান মারুফ হোসেন ও পেটের পাঁচ মাসের সন্তানের কথা ভেবে বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে মহানন্দা ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে আসি। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে চিনতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।’

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সকালে আড়ানী রেলস্টেশনে গোলাপিকে দেখা যায়। পরে তাকে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। সেখানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তার মামা শাকিব হোসেন, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ভাসুর মাজদার রহমান, জা সাজেদা বেগমের উপস্থিতিতে তাকে আসল গোলাপি হিসেবে শনাক্ত করা হয়।