বাণিজ্য যুদ্ধে চটেছে চীন, নজর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডারে

শুরুতে কিছুটা রাখঢাক রেখে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ এড়াতে চেয়েছিল চীন। কিন্তু চীন যতই সুর নরম করছিল, ততই চেপে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এবার পাল্টা আঘাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বৃহস্পতিবার এই বাণিজ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে সবচেয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ হানায় চীন।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানায়, আগামী সপ্তাহে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে তোপ দাগালো চীন।

এদিন চীন বলেছে, শুল্ক আরোপের নামে যুক্তরাষ্ট্র ‘বাণিজ্য সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি অর্থবছরে চীনের প্রবৃদ্ধির হার ৩.৩% থাকবে বলে তাদের পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নেওয়ায় সেটা কমিয়ে ৩.২% করল বেইজিং।

তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছে চীন। নিশানা হিসেবে তারা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস অস্ত্র নির্মাণ শিল্পকে। অতি দুর্লভ খনিজ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমাতে পারে চীন।

মূল্যবান ও উৎকৃষ্ট ওই খনিজগুলো স্মার্ট ফোন, সামরিক ক্ষেত্রে যেমন- এফ-২২ যুদ্ধবিমান তৈরি করতে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির জরুরি উপকরণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন সত্যিই এই সিদ্ধান্ত নিলে বাণিজ্য যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ হবে। কারণ, বিশ্বে এই খনিজগুলোর প্রায় ৯৫ ভাগ উৎপাদন করে চীন। চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগ চীন থেকেই নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের ইঙ্গিত, আমেরিকার ওপরে চাপ বাড়াতে ওই খনিজের রপ্তানি কমানো হতে পারে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট শি গুয়াংঝাউ প্রদেশে ওই খনিজ পদার্থের কারখানা দেখতে যান।

পরে এক সরকারি কর্মকর্তার ইঙ্গিত দেন, খনিজ সম্পদ আগে নিজেদের প্রয়োজনেই ব্যবহার করা উচিত। অন্য দেশের ‘ন্যায়সঙ্গত’ চাহিদা থাকলে বেইজিং তা মেটাবে। কিন্তু চীনের উন্নতিতে বাধা হবে, এমন কাউকে তা দিলে দেশের মানুষই অসন্তুষ্ট হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থা হুয়াওয়ের ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। হুয়াওয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এনিয়ে মার্কিন আদালতে যাবে তারা। এ নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে দু’দেশের মধ্যে।