ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দুঃস্মৃতি মুছে ফেলার মিশন

একদিন পরই শুরু হচ্ছে কোপা আমেরিকা-২০১৯’র আসর। ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এবারের টুর্নামেন্টে একবিন্দুতে দাঁড়িয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে যে দুঃস্বপ্নের শিকার হয়েছিল ব্রাজিল, নিজেদের মাটিতে কোপা জিতে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে চায় সেলেসাওরা। আর ওই বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠে ব্রাজিলের মাটি থেকে বিশ্বকাপ না নিয়ে আসার কষ্ট এখনো মেসিদের মনে।

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃখের অধ্যায় ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া। তাছাড়া রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। আর আর্জেন্টিনা তো আরও একধাপ আগেই (শেষ ১৬) বিদায় নেয়। সেইসঙ্গে পরপর দুইবার কোপার ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের স্মৃতি তো মেসিদের আছেই। সবমিলিয়ে দুঃস্মৃতি মুছে ফেলার মিশন উভয় দলের।

কোপার আরেক সুপরিচিত দল চিলিকে টানা তৃতীয় শিরোপা জিততে হলে অনেক ভালো করতে হবে। তবে চিলিকে ছাপিয়ে ফেভারিট তালিকায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাই।

আর্জেন্টিনা এবং নিজের অপেক্ষা ঘোচাতে পারবেন মেসি?
আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের অভাব মেসির সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হওয়া বিতর্কে প্রতিনিয়ত লাঠি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে মেসি এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চান। সম্প্রতি ফক্স-স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে কিছু একটা জিতেই ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। অন্তত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাই করার চেষ্টা করব।’

মেসি চেষ্টা করেননি, এই অপবাদ তাকে দেয়া যাবে না। দলকে বিশ্বকাপসহ তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে তুলেছেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর টানা দুইবার কোপায়। কিন্তু কোপায় দুবারই চিলির কাছে পেনাল্টিতে হেরেছে আর্জেন্টিনা।

১৯৯৩ সালের পর আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতেনি। ৩২ বছরের মেসি এবার নিজের এবং দলের জন্য আন্তর্জাতিক সাফল্য নিয়ে আসতে চান।

পোস্টারবয় ছাড়া ব্রাজিল
স্বাগতিক এবং ফেভারিট ব্রাজিল কোপায় নামছে তাদের পোস্টারবয় নেইমারকে ছাড়াই। ইনজুরির কারণে খেলা হচ্ছে না পিএসজি তারকার।

তা সত্ত্বেও, এই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্যদের প্রমাণ করার দরজা খুলে দেয় এবং রিসার্লিসন, এভারটন এবং ডেভিড নেরেসসহ কোচ টিটের কাছে এমন প্রচুর বিকল্প রয়েছে। তবে ঘরের মাঠে আরেকবার ব্যর্থ হলে নেইমারের ইনজুরিকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হবে ব্রাজিলের জন্য। নেইমার না থাকায় দলে সাফল্য আনার ক্ষেত্রে চাপ বাড়বে ফিলিপে কৌতিনহোর ওপর।