ভারতের দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার

ভারতের দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটির আর কোনো যাত্রী বেঁচে নেই বলে জানিয়েছেন বায়ুসেনা বাহিনী।

দশ দিন আগে ভারতীয় বায়ুসেনার পণ্যবাহী বিমান এএন-৩২ আসামের জোরহাট থেকে অরুণাচলের মেচুকা যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে যায়৷ বিমানে ছিলেন ৫ জন যাত্রী, ৮ বিমান কর্মী৷ তারপর থেকেই শুরু হয় তল্লাশি৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলল ওই ১৩ জনের দেহ, পাওয়া গেল ব্ল্যাক বক্সও৷

প্রথমদিকে বিমানের কোনও খোঁজই মেলেনি৷ বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভেঙে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল৷ এর জন্য বিমানের ১৪ বছরের পুরনো বিপদ সংকেত যন্ত্র কাজ করেনি বলেও দায়ী করা হচ্ছিল৷ তাতে বায়ুসেনার বিমানের আধুনিক পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ অরুণাচলের সিয়াং জেলার গহন জঙ্গলে বিমানের খোঁজ চালাতে স্থানীয় ৫ শিকারিকেও নিয়োগ করে উদ্ধারকারী দল৷ যারা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিচিত৷ ফলে তাদের সাহায্য প্রয়োজন ছিল বাহিনীর কাছে৷ কিন্তু প্রকৃতি সেখানে এতই দুর্গম যে কোনওভাবেই ঠিকমতো উদ্ধারকাজ করা সম্ভব হয়নি৷

তল্লাশি অভিযানে নামে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমান, সুখোই এসইউ-৩০, নৌসেনার পি ৮-আই বিমান। এছাড়াও সেই অভিযানে অংশ নেয় সেনা হেলিকপ্টার। সাহায্য নেওয়া হয় ইসরো-র উপগ্রহ চিত্র এবং ড্রোনের। রাতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল গত কয়েক দিন ধরেই। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া এই অভিযানে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তারপরেও হাল ছেড়ে দেয়নি বায়ুসেনা বাহিনী। হারিয়ে যাওয়া বিমানের খোঁজ দিতে পারলে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করা হয় বায়ুসেনার তরফে। শেষে মঙ্গলবার সন্ধে নাগাদ অরুণাচলের লিপোর এমআই-১৭ তল্লাশি বিমানটির চোখে পড়ে৷ কিন্তু লিপোর প্রকৃতি এতটাই দুর্গম যে কোনওভাবেই কিছু করা যাচ্ছিল না৷

এই পরিস্থিতিতে বোঝাই যাচ্ছিল, বিমানের কারও আর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই৷ তবে বৃহস্পতিবার বায়ুসেনার তরফেই তা নিশ্চিত করা হল৷ বলা হল, ১০ দিন আগের নিখোঁজে বিমানের কেউ আর বেঁচে নেই৷ তার কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার হল৷ যা ঘিরে আশা বাড়ছে৷ ব্ল্যাক বক্সটি থেকেই জানা যাবে এমন বিপদের কারণ৷ সেইসঙ্গে উদ্ধার হয়েছে ১৩জনের দেহও৷ শোকের ছায়া পরিবারগুলিতে৷