লিপস্টিক লাগানোর আগে ও পরে

একজোড়া টুকটুকে লাল পেলব ঠোঁট। এই ঠোঁটজোড়া ও তার সঙ্গী ভুবনমোহিনী হাসিতেই তো ধরা থাকে অর্ধেক আকর্ষণ! সিনেমার পরদায় নায়িকাদের ঠোঁটের আবেদনে তাঁদের থেকে চোখ ফেরাতে পারেন না কত পুরুষ! আবার মোহময়ী ঠোঁটই একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিচায়কও বটে। আর এই ঠোঁটকে আরও আকর্ষণীয়, আরও মোহময়ী করে তুলতে আমরা যে প্রসাধনটি ব্যবহার করি, সেটি হল লিপস্টিক। ঠোঁটের অলংকারও বলা যেতে পারে একে। তবে লিপস্টিক ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুললেও, অনেক বিশেষজ্ঞের মতেই এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। অত্যন্ত সামান্য মাত্রায় থাকলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এই উপাদানগুলি থেকেই ঠোঁটের ত্বকে নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই, লিপস্টিক ব্যবহারের আগে একটু সতর্কতা নিতে হবে। আর নিতে হবে ঠোঁটের নিয়মিত যত্ন।

লিপস্টিকে ক্ষতিকর উপাদান:

অনেকের মতে, লিপস্টিকে রয়েছে সীসা ও অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিকাল। যদিও কোনও লিপস্টিকের ম্যানুফ্যাকচারিং এজেন্ট হিসেবে সীসার উল্লেখ থাকে না, তবে বেশ কয়েকটি গবেষণায় লিপস্টিকে সীসা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু সীসাই যে আপনার লিপস্টিকের খলনায়ক, তা নয়। এছাড়াও আরও একাধিক ধাতুর উপস্থিতির কথাও টের পেয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। বারবার জিভ দিয়ে চাটলে বা খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকে গেলে একইসঙ্গে বেশ খানিকটা ধাতুও ঢুকে যায় শরীরে। বিদেশে অনেক গবেষণায় তো কিছু ব্র্যান্ডের লিপস্টিকে কোবাল্ট, ক্যাডমিয়াম, টাইটেনিয়ামের মতো ধাতুও পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন ধরে লিপস্টিক লাগিয়ে রাখলে সমস্যা হতে পারে। তাই বাড়ি ফিরে লিপস্টিক তুলে ফেলুন। টকটকে লাল বা গাঢ় রংয়ের শেডে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ধাতব উপাদান থাকে। তাই গাঢ় রংয়ের লিপস্টিক এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করুন। পার্টি বা বিয়েবাড়িতে গেলে আজকাল বেশিরভাগ মহিলাই লং লাস্টিং শেড পছন্দ করেন বেশি। এমনকি রোজকার অফিসে যাওয়ার আগেও অনেকেই লং লাস্টিং শেড লাগিয়ে বেরন। এতে বারবার টাচ-আপের হ্যাপা না থাকলেও, ঠোঁটের স্বাস্থ্যের উপর এর নঞর্থক প্রভাব পড়তে পারে। বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটলে বা হাত দিলেও সমস্যা হতে পারে। তবে যাঁরা মাঝেমধ্যে লিপস্টিক লাগান, তাঁরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। লিপস্টিক লাগানোর পরে যদি ঠোঁটে র্যাশ বেরয়, চুলকানি হয় বা ঠোঁট কালো হয়ে যায়, তাহলে লিপস্টিক বদলে ফেলা উচিত। এগুলো কিন্তু প্রাথমিক উপসর্গ। যদি কোনও ব্র্যান্ড লং লাস্টিং লিপস্টিকে কৃত্রিম স্টেবিলাইজ়ার ব্যবহার করে থাকে, তাহলে সেটি থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্টেবিলাইজ়ার হিসেবে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হতে পারে। আবার গাঢ় রংকে খানিকটা হালকা করার জন্য টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইডের মতো হোয়াইটনিং এজেন্টও ব্যবহার করা হতে পারে। গ্লিটারযুক্ত লিপ গ্লসেও থাকতে পারে অভ্র। আবার এই অভ্রের মধ্যে থাকতে পারে সীসা, ম্যাঙ্গানিজ়, ক্রোমিয়ামের মতো ধাতু। এ তো গেল ধাতব উপাদান ও তা থেকে হওয়া সমস্যার কথা। এছাড়াও লিপস্টিক ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা শুষে নেয়। তাই, সারাদিনের জন্য লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁটে গাঢ় রং চাইলেও, আগে লিপ বাম লাগিয়ে তার উপর লিপস্টিকের কোটিং লাগান।

লিপস্টিক লাগানোর আগে ও পরে:

কসমেটিক থেকে শরীরে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলেও সাংঘাতিক কোনও ক্ষতি সাধারণত হয় না। তবে সাবধান থাকার জন্য লিপস্টিক লাগানোর আগে ময়েশ্চারাইজ়ার লাগিয়ে নিন। এটি লিপস্টিকের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে অনেকাংশে রক্ষা করবে। লং লাস্টিং, ম্যাট লিপস্টিক যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন। যে লিপস্টিক তাড়াতাড়ি রিমুভ করা যায় না, সেরকম লিপস্টিক না লাগানোই ভাল। লিপস্টিক লাগানোর পরে যদি ঠোঁট শুকিয়ে যায় বা ঠোঁট থেকে চামড়া ওঠে, তাহলেও প্রডাক্টটি বদলে ফেলুন।

ঠোঁটের যত্ন নিন:

একজোড়া পেলব, মখমলে ঠোঁট পেতে কিছুটা যত্নআত্তি তো করতেই হবে। প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মিল্ক ক্রিম লাগান। এতে ঠোঁট থাকবে হাইড্রেটেড। শুধুমাত্র শীতকালেই নয়, গরমেও যাঁরা সারাদিন এয়ারকন্ডিশনড ঘরে থাকেন, তাঁদের ঠোঁটের আর্দ্রতাও কমে যায় বহুগুণ। মিল্ক ক্রিম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে তো বটেই, ডার্ক লিপসের জন্যও উপযোগী। ঠোঁটের ময়েশ্চারাইজ়ার হিসেবে অলিভ অয়েল আর মধুও খুব ভাল। ভাল ব্র্যান্ডের লিপ বাম ব্যবহার করুন।

আর সপ্তাহে অন্তত দু’বার লিপ স্ক্রাবিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি লিপ স্ক্রাবারই বেশি ভাল। জানলে অবাক হবেন, আপনার রান্নাঘরে মজুত ব্রাউন শুগারও কিন্তু আপনার ঠোঁটের দারুণ স্ক্রাবার হতে পারে!

দিনে দু’বারের বেসি লিপস্টিক লাগাবেন না। এমনিতেও চেষ্টা করুন নিয়মিত লিপস্টিক না লাগাতে।

লিপস্টিক লাগানোর পরে ঠোঁটে বারবার হাত দেবেন না বা ঠোঁট জিভ দিয়ে চাটবেন না।

খুব গাঢ় রংয়ের বা ম্যাট শেডের লিপস্টিক নিয়মিত লাগাবেন না!