শিশুর জিংক ও আয়োডিনের ঘাটতি

শিশু ভিতরে  জিংক ঘাটতিজনিত সংকটে পড়লেও তার দৈহিক উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে এবং এরকম সাব–ক্লিনিক্যাল অসুখে শিশু কম বেশি ভোগে।

জিংক যোগানো হয় যেসব রোগে তাদের অন্যতম হলো ‘উইলসন ডিজিজ’
স্বল্প জন্ম ওজনী ও আমিষ ক্যালরি ঘাটতিজনিত অপুষ্টিগ্রস্ত বাচ্চাতে বাড়নে জিংক সাহায্য করে
শিশু যখন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তখন তাকে খাওয়ার স্যালাইন ও ২ সপ্তাহের জন্য জিংক দিতে বলা হয়
এছাড়া শিশু যখন টিপিএন, হেপাটাইটিস, এক্রোডারমাইটিস এনটেরোপ্যাথিকা (জেনেটিক রোগ) প্রভৃতিতে ভোগে তখন সে জিংক ঘাটটিতে পড়ে।
উৎস : লিভার, মেরিয়্যালস, বাদাম, আঙুর।

ঘাটতির চিহ্নসমূহ:

দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
খিদে মন্দা
অন্ডকোষ ছোট হয়ে যাওয়া
ডায়রিয়া
জিভে বিস্বাদ ভাব।
চিকিৎসা : ডোজ : দৈনিক ৫–১৫ মি. গ্রাম (১–২ মি. গ্রাম/কেজি/দিন, সর্বোচ্চ ১৫০ মি. গ্রাম)।

ডায়রিয়াতে : ২–৬ মাস বয়সে ১০ মি. গ্রাম/প্রতিদিন ২ সপ্তাহ, ৬ মাসের বেশি বয়সে ২০ মি. গ্রাম/প্রতিদিন ২ সপ্তাহ।

শিশুতে আয়োডিন ঘাটতি

শিশু তার জন্য প্রয়োজনীয় এই খনিজ পদার্থ মূলত: পায় খাবার পানীয় (দুই–তৃতীয়াংশ ভাগ) ও খাবার (এক ভাগ) থেকে।

খাবারের লবণে আয়োডিন (১৫ পিপিএম–১৫ মাইক্রো গ্রাম/গ্রাম) এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ঘাটতিজনিত চিহ্ন : গলগণ্ড রোগ/ঘ্যাগ রোগ

গর্ভপাত, গর্ভস্থ শিশুর নানা অঙ্গ ত্রুটি বিচ্যুতি

থাইরয়ড গ্রন্থির হরমোনের জন্মগত অভাব।

সমস্যা :

– শিশু হাবাগোবা ও খাটো হয়।

আয়োডিনের উৎস :

– সামুদ্রিক আছ

– খাবারের জল

– আয়োডিনযুক্ত খাবারের লবণ।

বেশি ঘাটতিতে পড়ে :

– পানীয় জলে আয়োডিন ঘাটতি থাকলে বিশেষত: পর্বতবাসীদের

– যারা বেশি ফুলকপি–বাঁধাকপি খায়

দৈনিক চাহিদা : ৫৯–১৫০ মাইক্রো গ্রাম।

ঘাটতি নিরুপণে পরীক্ষা :

– প্রস্রাবে আয়োডিন মাত্রা পরীক্ষা যদি তা ১০০ মাইক্রোগ্রাম/ লিটারের কম থাকে ণ্ড ডিপ স্টিক টেস্টে তা ধরা পড়ে

– ৫০–১০০ মাইক্রোগ্রাম মি. এর কম হলে সাধারণ মাত্রার, ২০–২৫ মাইক্রোগ্রাম/লি. এর কম থাকলে মাঝারি ও ২০ মাইক্রোগ্রাম/লি. এর কম থাকলে মারাত্মক ঘাটতি বলে গণ্য করা হয়।