সন্তান জন্ম দিয়ে হাসপাতালের বেডে বসে পরীক্ষা

 সন্তানসম্ভাবা কিংবা সন্তান কোলে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা গেলেও এবার সন্তান জন্ম দেওয়ার ৩০ মিনিট পরই হাসপাতালের বেডে বসে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে ইথিওপিয়ার এক নারীকে। যদিও হাসপাতালের বেডে বসে যাতে পরীক্ষায় অংশে নিতে পারেন সেজন্য আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা করে রেখে ছিলেন ওই নারীর স্বামী।

গত ১০ জুন, সোমবার তিনি তিনটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন- ইংরেজি, আমহেরিক ও গণিত। পরের পরীক্ষাগুলো কেন্দ্রে গিয়েই দেওয়ার কথা বলে জানান আলমাজ ডেরেস নামের ওই নারী।

ইথিওপিয়াতে পড়ালেখা শেষ করার আগেই ছাত্রীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া একটি সাধারণ ঘটনা। সেখানে এই ধরনের ঘটনা বলতে গেলে প্রায় বিরল।

পশ্চিম ইথিওপিয়ার মেতু অঞ্চলের ২১ বছর বয়সী আলমাজ ডেরেস আশা করেছিলেন সন্তান প্রসবের আগেই তিনি হয়তো পরীক্ষা শেষ করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু রমজান মাসের কারণে মাধ্যমিক স্কুলের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই প্রসবের ব্যথা উঠলে গত সোমবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেদিনই তার পরীক্ষা শুরু। এর মধ্যে তিনি সন্তান প্রসব করেন এবং তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষা শুরু হলে তিনি হাসপাতালের বেডেই পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে শুরু করেন।

আলমাজ বলেন, পরীক্ষায় বসার জন্য আমি খুব উদগ্রীব ছিলাম। বাচ্চা জন্ম দেওয়াটা খুব একটা কঠিন ছিল না, গর্ভকালীন অবস্থায় পড়ালেখা করতে আমার তেমন অসুবিধা হয়নি। তবে আমার জীবনের এরকম একটি ঘটনার কারণে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে চাইনি। কারণ তাহলে আমাকে আরও একটা বছর অপেক্ষা করতে হতো।

তিনি বলেন, আমি এখন দুই বছরের একটি কোর্সে ভর্তি হতে আগ্রহী এবং এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই। এখন খুব খুশি যে পরীক্ষা ভালো হয়েছে। একইসঙ্গে নবজাতক শিশুটিও ভালো আছে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে আলমাজের স্বামী টেডেস টুলু জানান, এরকম অবস্থায় স্ত্রীর স্কুল যাতে হাসপাতালেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করে সেজন্যে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়েছিলেন তিনি।