সহিংসতার পর থমথমে হংকং

চীন এবং তাইওয়ানে বন্দি বহিঃসমর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত এক বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় হংকংয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চলমান বিক্ষোভের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালেও সরকারি দফতরগুলোর সামনে অবস্থান নিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কিছু সরকারি দফতর।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কয়েকশ আন্দোলনকারী মুখোশ ও খাবার নিয়ে দেশটির আইনসভার সামনে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। হেলমেট ও ঢাল নিয়ে সেখানে প্রস্তুত রয়েছে শত শত পুলিশ। এছাড়া ইউনিফর্মবিহীন পুলিশও রয়েছে। চেক করা হচ্ছে সবার পরিচয়পত্রও।

এর আগে বুধবার দিনভর দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনকারীদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। প্রধান প্রধান সড়ক ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন অবরোধ করে রাখা বিক্ষোভকারীরাও পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছোড়ে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বুধবারের সংঘর্ষে ২১ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বয়স ১৫ থেকে ৬৬। আহতদের দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের থেকে চীনের কাছে হংকংয়ের হস্তান্তরের পর থেকে বিতর্কিত এই বিলটিকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেখেছে এশিয়ার এই অর্থনৈতিক কেন্দ্রটি। কিন্তু তারপরও প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম। ব্যাপক গণআন্দোলনের মধ্যেই সোমবার ল্যাম জানান, প্রত্যর্পণ বিলে কোনো কাটছাঁট করা হবে না।

বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করছে পুলিশ
এরপর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে হংকং। বুধবার বিলটি নিয়ে আইন পরিষদে দ্বিতীয় দফা বিতর্ক হওয়ার কথা থাকলেও বিক্ষোভের মুখে ওই বিতর্ক স্থগিত করা হয়।

স্বায়ত্ত্বশাসিত হংকংয়ের আইন পরিষদে আগামী ২০ জুন বিলটি নিয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন, বন্দি প্রত্যাবর্তনের এই আইন পাস হলে তা হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে৷

হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি৷

প্রসঙ্গত, গত বছরের এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত এই বিলটি তৈরি করা হয়৷ তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিয়োগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময়ের কোনো চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না৷

প্রস্তাবিত বিলে এরকম পরিস্থিতিতে সন্দেহভাজন অপরাধীকে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে৷ কিন্তু চীন এই আইনের সুবিধা নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের উপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে সন্দেহ থাকায় বিষয়টি সেখানে এক রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে৷ ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দারা ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷

পাশাপাশি তাইওয়ান জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা। কেননা পরবর্তীতে চীন এটিকে কাজে লাগাতে পারে৷

বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কোন বন্দিকে ফেরত পাঠানোকে নিরাপদ মনে করছেন না তাইওয়ান এবং হংকংয়ের সাধারণ মানুষ