ঠাকুরগাঁওয়ে একযোগে মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁও জেলায় একযোগে ৩ ঘন্টা ব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) উদ্বোধনকালে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ব্যক্তি।
বুধবার (০৭ আগস্ট) সকাল ১০ টাই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম এর সভাপতিত্বে জেলায় একযোগে মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) উদ্বোধন করেন, আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।
ঠাকুরগাঁও শহরের গমগবেষণা গারের পাশে বরেন্দ্র নার্সারী এলাকায় একযোগে মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) উদ্বোধন করার সময় রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ঠাকুরগাঁও সহ দেশের সব জায়গায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে তার কারণ অপরিস্কার অপরিচ্ছন্নতা। তাই আমি সকলকে নিজ নিজ এলাকা, বাড়িসহ বাড়ির আশ-পাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার অনুরোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ তার উদ্যোগের মাধ্যমে আজকে আমরা এই মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছি। আমি আশা করছি এই অভিযানের মাধ্যমে সমগ্র জেলার মানুষ রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকবে। এই অভিযানকে সফল করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
অন্যদিকে ক্র্যাশ প্রোগ্রামে অংশ্রগ্রহণকারী বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির জেলা ইউনিটের সাবেক যুব প্রধান মোকারম হোসেন জানান, আমরা এর আগে অনেক জেলা প্রশাসক স্যারকে পেয়েছি কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসকের মতো এতো সক্রিয়ভাবে কাউকে কাজ করতে দেখিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য আমাদের বর্তমান জেলা প্রশাসক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে থানা কার্যালয়ের আশে পাশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের লক্ষ্যে  বিøচিং পাউডার ছিটিয়ে এডিস মশার লার্ভা বিনাশ এবং ডেঙ্গু মশা নিধনকারী স্প্রে করা হয়।
এদিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পিযূষ কান্ত রায় বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কাজে তিনি নিজে অংশগ্রহণ করেন তাই আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই ও তার এই উদ্যোগকে প্রশংসা করি। জেলা প্রশাসক নিজে মশক নিধন কাজে অংশগ্রহণ করে সকলকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এতে আমরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছি।এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে (৭ আগস্ট) পৌরসভার ১ নাম্বার ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হামিদুল্লাহ আল মামুনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলায় একযোগে মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) জেলার সকল সরকারি ও বে  সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, আবাসিক এলাকা, সকল প্রকার রাস্তাঘাট, ড্রেন, নালা, খাল, জলাশয় পুকুরে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার, বিøচিং পাউডার ছিটিয়ে এডিস মশার লার্ভা বিনাশ এবং ডেঙ্গু মশা নিধনকারী স্প্রে করা হয়। পাশাপাশি সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ আবুল হাসান ত্বোহার নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণ সচেতনতা মূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিটি প্যারেড সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বক্তব্য দেন, সহকারী অধ্যাপক, মাওলানা আব্দুল হাকিম, সহকারী অধ্যাপক, মাওলানা ফজলে রাব্বী মোর্তজাবী, সহকারী শিক্ষক,মো:রেজওয়ানুর রহমান (বিএসসি গণিত), সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), নুরেআলম শাহ প্রমুখ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণ জনসচেতনতা মূলক আলোচনা সভায় সকল শিক্ষক – শিক্ষিকা মন্ডলী সহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের রোগ মুক্তি কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন, সহকারী অধ্যাপক, মাওলানা আব্দুল হাকিম।
একযোগে মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) উদ্বোধন কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, অতিরুক্ত পুলিশ সুপার আল-আসাদ-মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আ.লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) এ অংশগ্রহণ করে জেলা স্কাউট, বিডি ক্লিন, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীরা।