সারিন্দায় সূর তুলে সংসার চলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুনীলের

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের চন্দ্রখানা গ্রামের খামারটারীর বাসিন্দা সুনীল। বয়স আনুমানিক ৩৬ বছর। পিতা সৈলান ও মাতা শ্রীমতি রানী। সম্পদ বলতে আছে ৪ শতক বাড়ি ভিটা। কিন্তু থাকার কোন ঘর নেই। তাই থাকেন পার্শ্ববর্তী মামা মনোরঞ্জনের বাড়িতে। স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে তার পরিবার। ছেলের বয়স ৯ বছর। সে তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সুনীল জানান, তার বয়স যখন ৩ বছর তখন তার টাইফয়েড হয়। টাইফয়েডের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তিনি দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তার অভিভাবকরা বিভিন্ন সময়ে তাকে লালমনিরহাটের হাড়িভাঙ্গা চক্ষু হাসপাতাল, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। কিন্তু সুনীলের দৃষ্টি শক্তি আর ফিরে আসেনি। দৃষ্টি শক্তি না থাকায় সম্পূর্ণ ভাবে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। শিক্ষা ও কোন কাজের দক্ষতা তার নেই। তাই বয়স যখন পনের ষোল জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নেন শর আর সারিন্দা। বিভিন্ন হাট বাজারে এমনকি কোথাও লোকজনের সমাগম দেখলে তিনি সেখানে সারিন্দায় সূর তোলেন। সারিন্দার সূর আর তার সূরেলা কন্ঠের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে উপস্থিত লোকজন সাধ্যমত তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেন। এতে তার দৈনিক ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা আয় হয়। এই আয়ে তার সংসার চলে। এভাবে ২০ বছর ধরে সুনীলের জীবন জীবিকা আর সূখ দুঃখের সাথে জড়িয়ে আছে শর সারিন্দা।