ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে যানজট রাতে, দিনে তুলনামূলক কম

ছোট ছোট দুর্ঘটনা ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে ধীরগতির কারণে ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট দেখা গেছে। তবে রাতে চলাচলকারী যানবাহনগুলোতে দীর্ঘ সময় যানজট পরিলক্ষিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষেরা। সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু পশ্চিমপাড়ের কাশেম বাজার থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকায় শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত এমন চিত্রই দেখা গেছে। এছাড়া যানবাহনের চাপ বাড়ায় এক গাড়ির বাম্পারের সঙ্গে অন্য গাড়ির বাম্পার লেগে কচ্ছপ গতিতে চলছে যানবাহন।

ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে যানজট থাকলেও শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট কমতে দেখা যায়। ফলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নানা বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে ঘরে ফিরতে গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটে চলা মানুষদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় থেকে কাশেম বাজার পর্যন্ত যানজট মুক্ত থাকলেও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় যানবাহন বিভিন্ন সড়কে ভাগ করে দিতে একটু সময় লাগায় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া মহাসড়কের নলকা ও অ্যারিস্ট্রোক্রেট মোড়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুইটি সেতু রয়েছে। প্রতিটি গাড়িকে সেতুর উপর ধীর গতিতে চালাতে হচ্ছে। তবে মহাসড়কের ছোট ছোট দুর্ঘটনার কারণে দুই পাশের গাড়ি বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এক থেকে দুই মিনিট গাড়ি দাঁড়ালেই দেখা যায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ সহিদ আলম জানান, থেমে থেমে যানজট দেখা দিলেও তা স্থায়ী হয়নি। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর পুনরায় গাড়ি চলাচল করেছে। এ সময় গাড়ির অতিরিক্ত চাপের ফলে সামান্য সময়ে যদি একটি গাড়িও রাস্তায় দাঁড়ায় বা বিকল হয় তবে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে রাতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শনিবার সকাল থেকে যানজট কমে গেছে। এছাড়া হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনাগামী মহাসড়কে তেমন যানজট নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে যানবাহনগুলো ধীর গতির মুখে পড়ছে বলেও জানান তিনি।

এ দিকে বগুড়া হাইওয়ে অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে নলকা ও অ্যারিস্ট্রোক্রেট মোড়ের দুইটি ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর কারণে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। তবে পুলিশ-র‌্যাব যানজট নিরসনের পাশাপাশি ঈদে ঘরমুখো মানুষ যেন কোনো ভোগান্তিতে না পড়ে সে জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।