দুর্যোগসারাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সহধর্মিনীকে হত্যার দায়ে স্বামীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের তাজিবুর রহমানের মেয়ে
তাহেরা বেগম (৩০) কে পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যার দায়ে তার সাবেক
স্বামীসহ ৩ জনকে যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেছেন আদালত। সেই
সাথে আদালত তাদের প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে অর্থদন্ডে দন্ডিত করেছেন।
অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার
দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত
আলী দন্ডিতদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডিতরা হলেন- নিহত তাহেরা বেগমের সাবেক স্বামী জয়পুরহাট জেলার
আক্কেলপুর উপজেলার পশ্চিম ইমিট্টা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রফিকুল
ইসলাম মোন্না (৪১), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হোসেনডাঙ্গা রেললাইনপাড়া
এলাকার মৃত সওদাগর আলীর ছেলে তৈমুর রহমান (৫০) এবং গাইবান্ধা জেলার
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর আন্ধুরাপাড়া পূর্বপাড়া এলাকার বর্তমানে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামে বসবাসকারী মৃত এহসান আলীর
ছেলে আক্কাস আলী ব্যাপারী (২৯)।
এদিকে একই মামলায় অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় দন্ডিত তৈমুর রহমানের ছেলে
মিজানুর রহমানকে (২১) বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আঞ্জুমান আরা বেগম মামলার নথি মতে জানান,
পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাত প্রায়
সোয়া ১২ টার দিকে রবিবার ১৮ অক্টোবর সদর উপজেলার হোসেনডাঙ্গা এলাকায়
তালাক দেয়া স্ত্রী তাহেরার ঘরে ধারাল অস্ত্রসহ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ঢুকে
তাকে কুপিয়ে আহত করে সাবেক স্বামী রফিকুল। এ সময় বাধা দিতে আসলে তাহেরার
১০ বছরের মেয়ে চাঁদনি খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করে রফিকুল গং।
এ ঘটনায় ওই দিনই গুরুতর অবস্থায় তাহেরাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক)
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর
বৃহস্পতিবার জ্ঞান ফিরলে ঘটনা বর্ণনা করেন তাহেরা। সে অনুযায়ী ওই দিনই
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় ৪ জনকে এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে
হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন তাহেরার পিতা।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা ১৪ নভেম্বর শনিবার পর্যন্ত
চিকিৎসাধীন থেকেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা রেফার্ড করেন
চিকিৎসকরা। এরপর স্বজনেরা তাহেরাকে রামেক হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে এসে
ঢাকা নেবার প্রস্তুতিকালে ঘটনার ঠিক ১ মাস পর ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে
বাড়িতেই মারা যায় তাহেরা। ফলে মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই)
খাইরুল ইসলাম ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল সোমবার আদালতে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে
চার্যশীট দাখিল করেন।
এদিকে দীর্ঘ শুনানী, ১৩ জনের সাক্ষ্য ও প্রমাণের পর আদালতের বিচারক শওকত
আলী বুধবার আসামীদের উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায়
আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আ্্যাডভেঅকেট সোহরাব আলী।

2 Attachments
আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button