রংপুর বিভাগসারাদেশ

দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর উত্তপ্ত কাঁঠালবাড়ী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা। স্থানীয়রা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের পাঁয়তারা চলছে। এই অবস্থায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভোটাররা।
শনিবার (২০ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ‘নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে পরিস্থিতি ততই উত্তপ্ত হচ্ছে। আমরা ভোটাররা আতঙ্কে আছি। এমন ভীতিকর অবস্থা চলতে থাকলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবে কিনা সন্দেহ আছে।’
ঘটনার পরপর পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উৎপল কুমার রায়সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেন। রাত ১১টা পর্যন্ত কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে পুলিশি টহল লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল এবং ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক। আগামী ২৮ নভেম্বর এই ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেদওয়ানুল হক দুলালের ছোট ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম রতন বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ী বাজার সংলগ্ন এলাকায় উভয় পক্ষের কর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী আমাদের কর্মীদের উদ্দেশে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। আমাদের কর্মীরাও তাদের জবাব দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘোড়া প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের নির্বাচনি প্রচার বুথের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।’
রতন আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমি নিজে এগিয়ে গিয়ে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আমাকে উপেক্ষা করে আমাদের প্রচার বুথ ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে আমি খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’ আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করে নির্বাচনে ফায়দা নিতেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পিত এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর ভাই রতন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আব্দুল হক। তিনি জানান, তার কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মীরা। প্রতিনিয়ত তার কর্মীদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি হামলা চালানো হচ্ছে। শনিবারের সংঘর্ষে তার বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারণার পোস্টার-ব্যানার টানাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু এলাকায় পোস্টার লাগাতে দেওয়াও হচ্ছে না।
এই প্রার্থী বলেন, ‘শনিবার রাতে আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালায় তারা (আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা)। আমার এক কর্মীর দোকানে হামলা চালানো হয়। আমার প্রচারসামগ্রীসহ বাড়ির বেড়ায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। মা-বোনদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি ও আমার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ইউনিয়নের বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে জানিয়ে আব্দুল হক বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ  রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেবো।’
ওই ইউনিয়নের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গতকালের (শনিবার রাতের) ঘটনা ছিল এক ধরনের ওয়ার্মআপ। যে পরিস্থিতি তাতে খুনোখুনি হয়ে যাবে। দুই পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তবে যেকোনোভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্থানীয় প্রশাসন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উৎপল কুমার রায়।
সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) খান মো.শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। নতুন করে যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত না ঘটে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
সংঘর্ষের ঘটনা অবগত হয়েছেন জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাওলাদার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনও প্রার্থী লিখিত কোনও অভিযোগ করেননি। কোনও প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’
আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button